খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের পার্লামেন্টে শোক প্রস্তাব গৃহীত
ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চ ও নিম্ন—দুই কক্ষেই বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার লোকসভা ও রাজ্যসভার যৌথ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর সেক্রেটারি জেনারেল এ ভাষণের লিখিত অনুলিপি উপস্থাপন করেন।
ভারতীয় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা খালেদা জিয়া ও ভারতের আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে শোকবার্তা পাঠ করেন।
ওম বিড়লা বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদার করতে খালেদা জিয়ার ভূমিকা সব সময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ভারতীয় বার্তাসংস্থা ফ্রি প্রেস জার্নাল জানায়, বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব আনা হয়। এ সময় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী, লোকসভার সাবেক পাঁচ সদস্যের পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়ার নামও পাঠ করা হয়। পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ উভয় কক্ষের সংসদ সদস্যরা খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই আরেক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন পৃথকভাবে খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকবার্তা পাঠ করেন।
এসময় রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বলেন, সেক্রেটারি জেনারেল প্রয়াতদের পরিবারের সদস্যদের কাছে আমাদের গভীর শোক ও সহানুভূতির বার্তা পৌঁছে দেবেন।
সিপি রাধাকৃষ্ণন বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি।
তিনি বেগম জিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বে থাকাকালীন সংক্ষিপ্ত পটভূমি তুলে ধরেন। রাধাকৃষ্ণন বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে তিন দফা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।’
গত ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকায় সফর করেন। এ সময় তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে দেওয়া লিখিত শোকবার্তা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন।
বিএনপির তখনকার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ‘প্রিয় তারেক রহমান সাহেব’ সম্বোধন করে মোদী সেখানে লেখেন, খালেদা জিয়ার প্রস্থান ‘অপূরণীয় শূন্যতা’ সৃষ্টি করলেও তার দৃষ্টিভঙ্গি ও উত্তরাধিকার টিকে থাকবে।
এরপর ১ জানুয়ারি ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে গিয়ে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
ভারতের পার্লামেন্টে এই শোক প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়টি বর্তমান ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এটি কেবল একজন শীর্ষ নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশের প্রতি ভারতের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রতিফলন।
অধিবেশন শেষে ভারতের পার্লামেন্টের রেকর্ডবুকেও এই শোক প্রস্তাবটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার অকাল প্রয়াণে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে, ভারতের এই পদক্ষেপ তাকে আরও সম্মানিত করল।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের সূচনা হয় ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের মাধ্যমে। এই অধিবেশন চলবে আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করা হবে। এর আগে ২৯ জানুয়ারি সংসদে অর্থনৈতিক সমীক্ষা উপস্থাপন করা হবে।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে