Views Bangladesh Logo

আরব সাগরে ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজের সংঘর্ষ, দিল্লির প্রতিবাদ

উত্তর আরব সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতের একটি যুদ্ধজাহাজ ও পাকিস্তান নৌবাহিনীর একটি জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাকিস্তানের ‘অপেশাদার ও অনিরাপদ’ নৌচালনার অভিযোগ তুলে ইসলামাবাদের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওমান উপসাগর থেকে প্রায় ১২০ নটিক্যাল মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনার পরদিন বুধবার নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে প্রতিবাদপত্র হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকেও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একই ধরনের লিখিত প্রতিবাদ জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, সংঘর্ষে জড়িত পাকিস্তানি জাহাজটি ছিল পিএনএস হুনাইন। এটি ইয়ারমুক শ্রেণির একটি অফশোর টহল জাহাজ বা কর্ভেট। ভারতীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, জাহাজটি উচ্চ গতিতে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের দিকে এগিয়ে আসে এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়ে শেষ মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেয়।

ভারতের দাবি, সংঘর্ষে পাকিস্তানি জাহাজটির কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরে সেটি নিজ বন্দরে ফিরে যায়। তবে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং সেটি নির্ধারিত নজরদারি অভিযান অব্যাহত রাখে।

চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অভিযোগ
ঘটনার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ ধরনের আচরণ ১৯৯১ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সামরিক মহড়া, কৌশলগত চলাচল ও সেনা মোতায়েন সম্পর্কে আগাম অবহিতকরণ চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।

চুক্তির ওই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুর্ঘটনা এড়াতে দুই দেশের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনকে পরস্পরের কাছ থেকে অন্তত তিন নটিক্যাল মাইল দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

এমইএর বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভারতের উদ্বেগ পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দুই দেশের সব সামরিক ইউনিটকে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আগ্রাসন নয়, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ
ভারতীয় কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে সরাসরি সামরিক আগ্রাসন হিসেবে না দেখে প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের একটি গুরুতর ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুই দেশের নৌবাহিনীর নিয়মিত টহলের সময় নির্ধারিত দূরত্ব ও নৌচালনার পেশাদার মান বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে উত্তর আরব সাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ও ফ্রিগেটগুলো নজরদারি মিশনে মোতায়েন রয়েছে। একই অঞ্চলে পাকিস্তান নৌবাহিনীর টহল কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। ফলে দুই দেশের যুদ্ধজাহাজের কাছাকাছি অবস্থান নতুন নয়। তবে সংঘর্ষের ঘটনা বিরল।

২০১১ সালের ঘটনার স্মৃতি
সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ ২০১১ সালের জুনে এডেন উপসাগরে ঘটে যাওয়া আরেকটি ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সে সময় পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজ পিএনএস বাবর ও ভারতীয় ফ্রিগেট আইএনএস গোদাবরীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল।

ওই ঘটনার পর ভারত পাকিস্তানের নৌ উপদেষ্টাকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনিও সংসদে এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার বা দেশটির নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। ইসলামাবাদও ভারতের অভিযোগের জবাব দেয়নি।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ