ইনস্টাগ্রামে আপত্তিকর বিজ্ঞাপন সরাতে মেটাকে ভারতের নির্দেশ
ইনস্টাগ্রামে অর্থের বিনিময়ে প্রচারিত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিশুদের যৌন শোষণ ও নির্যাতনসংক্রান্ত কনটেন্টে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠার পর মেটাকে নোটিশ দিয়েছে ভারত সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মেটার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ফেসবুকও রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
গতকাল শনিবার ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ইনস্টাগ্রামকে নির্দেশ দিয়েছে, এ ধরনের কনটেন্টে প্রবেশের সুযোগ করে দেয় এমন সব বিজ্ঞাপনী কনটেন্ট অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দিতে বলা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য না দিলে তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং ২০১২ সালের শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের আওতায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত কনটেন্টের ‘অ্যালগরিদমিক প্রচার’ (algorithmic amplification) বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জেরে এই নোটিশ দেওয়া হলো। ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, মেটার রেকমেন্ডেশন অ্যালগরিদম শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত ভিডিও ব্যবহারকারীদের সামনে তুলে ধরছিল, যা প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তাব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতা সামনে এনেছে। বিবিসির তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়, মেটার নিজস্ব বিজ্ঞাপন নীতিতে নগ্নতা ও যৌন উত্তেজক কনটেন্ট নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে এ ধরনের বিজ্ঞাপন দেখা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করে ইনস্টাগ্রামে অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছিল। এসব বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীরা টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেলে পৌঁছে যেতেন, যেখানে অভিযোগ অনুযায়ী শিশু যৌন নির্যাতনের কনটেন্ট বিক্রি করা হচ্ছিল।
ভারত সরকার মেটার কাছে জানতে চেয়েছে—এ ধরনের বিজ্ঞাপন কীভাবে অনুমোদন পেল, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কী কী নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয় যখন অর্থের বিনিময়ে প্রচারিত এমন বিজ্ঞাপন, যা শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান প্রচার করে—তখন মধ্যস্থতাকারী প্ল্যাটফর্ম হওয়ার অজুহাতে কিংবা তৃতীয় পক্ষের কনটেন্টের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ মেটার নেই।
একটি সূত্র বলছে, ‘অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে বিজ্ঞাপনগুলোর জন্য মেটাকে দায়ী করা হবে, কারণ এসব বিজ্ঞাপন থেকে প্ল্যাটফর্মটি আর্থিকভাবে লাভবান হয়।’
বিবিসির প্রতিবেদনের বিষয়ে পিটিআইয়ের প্রশ্নের জবাবে ই-মেইলে পাঠানো এক বিবৃতিতে মেটার এক মুখপাত্র বলেন, শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান আহ্বান, প্রচার বা শেয়ার করার ক্ষেত্রে—এমনকি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেও—মেটার শূন্য-সহনশীলতার (zero-tolerance) নীতি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে নীতিমালা লঙ্ঘনকারী কনটেন্ট ও ব্যক্তিদের আগেভাগেই শনাক্ত করার চেষ্টা করি। তবে আমাদের ৩৫০ কোটি ব্যবহারকারীর মধ্যে লুকিয়ে থাকা অপরাধীদের সঙ্গে আমাদের প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়। তারা শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণেই আমাদের বিশেষজ্ঞ দলগুলো প্রতিনিয়ত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা উন্নত করছে, অপরাধীদের শনাক্ত ও দমন করতে নতুন প্রযুক্তি তৈরি করছে, নীতিমালা লঙ্ঘনকারী ওয়েবসাইটের লিংক ব্লক করছে এবং অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করছে, যাতে তারাও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।’
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনে শিশুদের যৌন উত্তেজক কর্মকাণ্ডে জড়িত দেখানো হয়েছে এমন ইলেকট্রনিক কনটেন্ট প্রকাশ বা প্রচারের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। আইনের ধারা ৬৭বি বিশেষভাবে অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান প্রকাশ, সংরক্ষণ ও প্রচারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
মতামত দিন