Views Bangladesh Logo

আয়কর আদায়ে প্রথম তিন মাসে চার হাজার কোটি টাকা ঘাটতি

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৩ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা পিছিয়ে আছে আয়কর বিভাগ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনে থাকা কাস্টমস ও মূল্য সংযোজন করের (মূসক) বা ভ্যাটের হিসেব যোগ করলে এই পরিমাণ আরও বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
এনবিআর সূত্র জানায়, অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আয়কর খাতের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকা। এই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয়কর বিভাগ আদায় করতে পেরেছে ২৩ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা। জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পর্যায়ক্রমে পরোক্ষ কর আদায়ের চেয়ে প্রত্যক্ষ কর আদায়ে বেশি মনযোগ দিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই বিষয়টির চর্চা হয়ে আসলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এখনও মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) উপরই ভর করে রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে।
আইএমএফের দেওয়া লক্ষ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে আয়কর খাত থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাতের লক্ষ্য ১ লাখ ৬২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আদায় করতে হবে ১ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। অথচ চলতি অর্থবছরে প্রথম তিন মাসের তথ্য অনুযায়ী, রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ হাজার ৮০৩ কোটি পিছিয়ে খাতটি।
এর আগে আইএমএফকে পাঠানো এনবিআরের রূপরেখায় জানানো হয়েছিল, চলতি অর্থবছরে আয়কর বিভাগের লক্ষ্য ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরে আয়কর বিভাগের আদায় ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। সে হিসেবে বাড়তি আদায় করতে হবে ২৪৫ কোটি টাকা।
এই টাকা কিভাবে আদায় হবে তার কৌশলপত্রে জানানো হয়েছে, আয়কর বিভাগের নিয়মিত প্রবৃদ্ধির হার ১৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এই হার বজায় থাকলে আদায় হবে ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। বাকি থাকবে ৯ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এই টাকা আদায়ে বাজেটে এবং আয়কর আইনে কর বাড়ানোর ফলে কিছু খাতে কর আদায় বাড়বে। যার মধ্যে ভূমি রেজিস্ট্রেশন থেকে আসবে ৩ হাজার কোটি টাকা, ভ্রমন কর খাত থেকে ৫০০ কোটি টাকা, টোব্যাকো কর থেকে ৩০০ কোটি টাকা, পরিবেশ সারচার্জ থেকে ৫০০ কোটি টাকা, করের পরিধি বৃদ্ধির মাধ্যমে ২৫০ কোটি টাকা, কার্বোনেটেড বেভারেজ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা ও বকেয়া কর আদায়ের মাধ্যমে ৩ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা আদায় করার পরিকল্পনা আয়কর বিভাগের।
তবে ভূমি রেজিস্ট্রেশনের উৎসে কর উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আগে গুলশান এলাকায় আবাসিক বা বাণিজ্যিক শ্রেণির জমির রেজিস্ট্রেশনে কাঠাপ্রতি দলিল মূল্যের ৮ শতাংশ বা ২০ লাখ টাকার মধ্যে যেটা বেশি, সেই হারে উৎসে আয়কর দিতে হতো। তবে নতুন জারি করা আদেশে এই এলাকার জমির রেজিস্ট্রেশনে কাঠাপ্রতি দলিল মূল্যের ৮ শতাংশ অথবা ক্ষেত্রভেদে ১৫ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকার মধ্যে যেটা বেশি, সেই হারে উৎসে আয়কর দিতে হবে। সে হিসেবে অনেকটাই কমেছে ভূমি রেজিস্ট্রেশনের উৎসে কর।
অন্যদিকে নতুন আয়কর আইনে কার্বোনেটেড বেভারেজের উপর মোট প্রাপ্তির ওপর ৫ শতাংশ ন্যূনতম করহার আরোপ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে চাপের মুখে সেখান থেকে সরে এসে ন্যূনতম করহার ৩ শতাংশ নির্ধারণ করে এনবিআর। এই দুই খাত থেকে করহার কমিয়ে আনলেও সমপরিমাণ আয়কর আদায়ের রূপরেখা দিয়েছে এনবিআর। করহার বাড়িয়ে ভূমি রেজিস্ট্রেশন থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ও কার্বোনেটেড বেভারেজ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনাতেই আটকে আছে সংস্থাটি। অথচ স্বাভাবিকভাকেই এই দুই খাতে কর আদায় কমার কথা। বাস্তবেও দেখা গেল লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক পিছিয়ে আয়কর আদায়। যদিও আয়কর বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থবছরের শেষদিকে সাধারণত আয়কর আদায় বাড়ে। তাই অর্থবছরের প্রথম তিন মাস দিয়ে বিবেচনা করা সঠিক হবে না। অর্থবছর শেষে নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারবেন বলে আশাবাদী তারা।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ