৫ দিনের সফরে ঢাকায় আসছে আইএমএফ প্রতিনিধিদল
নতুন ঋণ কর্মসূচি, নবম পে স্কেল এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কাঠামো, টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা করতে আগামী ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকা সফর করবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধিদল।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুমোদিত ঋণের শর্ত ও রূপরেখা পরিবর্তন করে বর্তমান বাংলাদেশ সরকার একটি নতুন ঋণ প্যাকেজের প্রস্তাব করেছে। এই নতুন প্যাকেজে ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং সংস্কার এজেন্ডা সংশোধনের ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে।
সফরের শুরুতেই অর্থ বিভাগের সাথে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবে আইএমএফের প্রতিনিধিদলটি। এসব বৈঠকে দেশের রাজস্ব নীতি, বাজেট এবং অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক অর্থায়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। এর পাশাপাশি সরকারের প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেল এবং এর ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর কী ধরনের আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে আলাদা একটি সেশনে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর সরকারের অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি প্রয়োজন হবে, যার মধ্যে চলতি অর্থবছরেই লাগবে প্রায় ৪৪,০০০ কোটি টাকা। দুর্বল রাজস্ব আদায়, ব্যাংকিং খাতের নাজুক পরিস্থিতি এবং চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে সরকার কীভাবে এই বিশাল অতিরিক্ত ব্যয়ের সংস্থান করবে, সে বিষয়ে আইএমএফ প্রতিনিধিদল বিস্তারিত জানতে চাইতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য কর আদায় ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে জরুরি। টেকসই অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট উৎস নিশ্চিত না করে এত বড় বেতন বৃদ্ধি করা হলে তা বাজেট ঘাটতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং একই সাথে মূল্যস্ফীতির চাপকে আরও উসকে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
মতামত দিন