যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীকে আটক করল আইস এজেন্টরা
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক নারীকে গাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে আটক করার অভিযোগ উঠেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) এজেন্টদের বিরুদ্ধে।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
আটক হওয়া নারীর নাম আলিয়া রহমান। তিনি একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী এবং মানবাধিকার ও এলজিবিটি অধিকারকর্মী। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তারে পরিচালিত একটি অভিযানের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদে নামেন।
এ সময় আলিয়া রহমান তার গাড়ি নিয়ে মুখোশধারী আইস এজেন্টদের পথরোধ করেন—এমন অভিযোগ করে তাকে আটক করা হয়।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আইস এজেন্টরা আলিয়ার গাড়ির কাচ ভেঙে জোরপূর্বক তাকে বের করে আনছেন। এ সময় আলিয়া নিজেকে অসুস্থ দাবি করে বলেন, তিনি চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিক্ষোভকারীরা তখন আইস এজেন্টদের থামতে চিৎকার করছিলেন।
ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীন একটি সংস্থা। অবৈধ অভিবাসীদের আটক, বিচার ও ফেরত পাঠানোর দায়িত্ব পালন করে সংস্থাটি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসননীতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আইস এজেন্টদের তৎপরতা ও আচরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের তথ্যমতে, ৪৩ বছর বয়সী আলিয়া রহমান একজন অভিজ্ঞ সফটওয়্যার প্রকৌশলী। তিনি নিজেকে ‘কমিউনিটি-ফোকাসড সিকিউরিটি প্র্যাকটিশনার’ হিসেবে পরিচয় দেন। এর আগে তিনি নিউ আমেরিকার ওপেন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের ফেলো ছিলেন এবং পুলিশের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নীতিমালা নিয়ে কাজ করেছেন।
লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি পারডু ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং সাইবার নিরাপত্তায় সনদপ্রাপ্ত।
আলিয়া রহমানের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে হলেও শৈশবের একটি বড় অংশ কেটেছে বাংলাদেশে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ও সামাজিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি নিজেকে ‘জেন্ডার কুইয়ার’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন ও এলজিবিটি অধিকার সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
মঙ্গলবারের ঘটনার পর আলিয়ার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে আইস কর্তৃপক্ষের দাবি, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে তিনি বাধা সৃষ্টি করেছিলেন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে