চলতি বছরই দেশে ফিরব: এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা
ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সব বাধা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে তিনি চলতি বছরই বাংলাদেশে ফিরবেন। তিনি জানান, দেশে ফেরা তার ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়; বরং গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মানুষের রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে এটি জড়িত।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক ইমেইল সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির কর্মসূচি পালনের পর সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, আমার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি কোনো স্বাধীন বিচারিক প্রক্রিয়ার ফল নয়। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করতেই বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমার বাবা-মা, ভাই এবং পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হারিয়েছি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আমাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। বহু ষড়যন্ত্রের পরও আমি মানুষের পাশে থেকেছি। তাই সব বাধা উপেক্ষা করে আমি চলতি বছরই দেশে ফিরব।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, দলটি শুধু একটি রাজনৈতিক সংগঠন নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে প্রোথিত একটি শক্তি। নানা নিষেধাজ্ঞা ও দমন-পীড়নের পরও আওয়ামী লীগের জনসমর্থন অটুট রয়েছে এবং জনগণের শক্তিতেই দলটি আবার ঘুরে দাঁড়াবে।
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বেড়েছে এবং উগ্রবাদের বিস্তার ঘটছে। এসব কারণে মানুষ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করছে।
দল নিষিদ্ধ থাকা এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কোনো সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে না, বরং জনগণের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির সমর্থনে কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ এবং রাষ্ট্রীয় আদর্শের ওপর আঘাত এসেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান, স্মৃতিচিহ্নে হামলা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।
অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা দাবি করেন, তার সরকারের সময়ে বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়, বিদ্যুৎ, আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও কর্ণফুলী টানেলের মতো প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নয়নের বৈশ্বিক উদাহরণে পরিণত হয়েছিল।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী, আহমদিয়া ও সুফি সম্প্রদায়ের সদস্যরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হামলার ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।
ভারতে নির্বাসিত জীবন সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, আমার ব্যক্তিগত জীবন এখন বাংলাদেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামের কাছে গৌণ। দূরে থাকলেও প্রতিদিন বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
মতামত দিন