Views Bangladesh Logo

‘মৃত্যুর আগে একবার দেখতে চাই’, নিখোঁজ ছেলেকে ফিরে পেতে বাবার আকুতি

কারও সন্তান নিখোঁজ আট বছর ধরে, কারও দেড় মাস আগে। আবার কারও সন্তান হারিয়েছে মাত্র ৩৮ দিন আগে। সময়ের ব্যবধান যতই হোক, সন্তানকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষা শেষ হয়নি এসব বাবা-মায়ের।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘নিখোঁজ’ শিশুদের সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসে সন্তানদের ফিরে পেতে কান্নায় ভেঙে পড়েন কয়েকজন বাবা-মা।

নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের উদ্যোগে এবং জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ‘আমার সন্তান কোথায়’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে নিখোঁজ থাকা ৩০টি শিশুর পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। তাঁরা সন্তানদের দ্রুত খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এসব ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে এবং এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি। তবে এখনো সন্ধান মেলেনি ২ হাজার ৩৮ জন শিশুর, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে আসা ইসমাঈল হোসেন নামে এক বাবা বলেন, তাঁর ছেলে ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি সকালে রাজধানীর লালবাগ থেকে নিখোঁজ হয়। তখন ছেলেটির বয়স ছিল আট বছর। এরপর আট বছর পেরিয়ে গেলেও সন্তানের কোনো সন্ধান পাননি তিনি।

ইসমাঈল হোসেন বলেন, ‘ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে যা কিছু অর্জন করেছি, সবকিছু চলে গেছে। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। মৃত্যুর আগে আমার সন্তানকে একবারের জন্য দেখে যেতে চাই। এছাড়া আমার কিছু চাওয়ার নেই।’

সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর প্রশাসনের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঝিনাইদহের খাজুরা গ্রামের মো. হোসেনের ১৩ বছর বয়সী ছেলে মো. আলী গত ২৯ জুলাই বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। কোরআনে হাফেজ ছেলেকে খুঁজতে বিভিন্ন জেলায় ঘুরেছেন হোসেন। তাঁর অভিযোগ, সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর সাধারণ ডায়েরি করতে গিয়েও প্রথমে পুলিশের সহযোগিতা পাননি।

তিনি বলেন, ‘দেড় মাস যাবৎ ছেলেকে আদর করতে পারি না। খাওয়াতে পারি না, ভালো পোশাক কিনে দিতে পারি না। আমার দুঃখের শেষ নেই।’

সাভারের বলিয়াপুর থেকে ৩৮ দিন আগে নিখোঁজ হয় পাঁচ বছর বয়সী যাদব কর্মকার। পোশাকশ্রমিক মা অর্চনা রানী দাস সন্তানের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘আমি আমার বাচ্চাকে চাই। এই বাচ্চা ছাড়া আমি বাঁচব না।’

সন্তানকে না পেয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের কথা ভেবে পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত খুঁজে বের করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে রাষ্ট্রের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি সাদাত রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২৪ সালে সিলেটে শিশু মুনতাহা নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের পর নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে অ্যাম্বার অ্যালার্ট ব্যবস্থা চালুর দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের সহযোগিতায় ‘মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন’ বা ‘মুন অ্যালার্ট’ এবং টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯ চালু করা হয়। বর্তমানে এটি দেশব্যাপী শিশু নিখোঁজ প্রতিরোধ ও উদ্ধারে সহায়ক উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ