আমি জুলাইয়ের পক্ষে ছিলাম: আদালতে কলিমউল্লাহ
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা জুলাই আন্দোলনের এক হত্যাচেষ্টা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুনানির সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, ‘আমি জুলাইয়ের পক্ষে ছিলাম’।
বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন এবং কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি নিয়ে কলিমউল্লাহ বলেন, আবু সাঈদ হত্যার প্রথম প্রতিবাদ আমিই করেছিলেন। আবু সাঈদ আমার ছাত্র। তার হত্যার পর আমি প্রতিবাদ জানিয়ে জনমত গঠন করি। আমি জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করিনি, বরং জুলাইয়ের পক্ষে ছিলাম।’
এর আগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গত বছরের ৭ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গত ১৪ জুন উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি। এক লাখ টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে জামিননামা গ্রহণের অনুমতিও দেন আদালত। অন্য কোনো মামলা না থাকায় তার কারামুক্তির প্রক্রিয়া চলছিল।
এ অবস্থায় উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা জুলাই আন্দোলনের হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর উত্তরা রবীন্দ্র সরণি এলাকায় জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির বাম হাতে গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে প্রথমে উত্তরা হাইকেয়ার জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় আহত মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
মতামত দিন