ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর হবার পথে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, বললেন ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’
যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত হয়েছেন ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র, বাম-ঘেঁষা নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। এর ফলে তিনিই হচ্ছেন দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ এই চার শব্দ দিয়েই যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নবনির্বাচিত এই নেতা।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। শুক্রবার অনুষ্ঠিত লেবার পার্টির বিশেষ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নেতা নির্বাচিত হন বার্নহ্যাম। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ কার্যত উন্মুক্ত হয়েছে তাঁর। দলীয় নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি বলেন, তাঁর লক্ষ্য শুধু সরকার পরিচালনা নয় বরং সুস্পষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যকে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়া।
দলীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সোমবার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এরপর রাজা অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। সেই আমন্ত্রণ গ্রহণের পর তিনি যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন এবং ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে নতুন মন্ত্রিসভার কার্যক্রম শুরু করবেন।
ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, গত ২৫ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাঁকে দেশের মানুষের প্রত্যাশা ও প্রয়োজন বুঝতে সাহায্য করেছে। “আমার একটি পরিকল্পনা আছে” সেই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য মানুষের রাজনীতির ওপর হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং এমন একটি সরকার গঠন করা, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।
তিনি আরও বলেন, তাঁর নেতৃত্বে লেবার পার্টি আবারও শ্রমজীবী মানুষের দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে। জনসেবা উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো হবে তাঁর সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী হলেও সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থেকেই কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের পক্ষে সোচ্চার। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পরও তিনি সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত অতিরিক্তভাবে লন্ডনকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সরকারগুলোর হাতে আরও ক্ষমতা ও অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে, যাতে দেশের প্রতিটি অঞ্চল সমানভাবে উন্নয়নের সুফল পায়।
এ ছাড়া জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) আরও শক্তিশালী করা, সামাজিক সেবা খাতে সংস্কার এবং অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বার্নহ্যাম। তাঁর মতে, গত কয়েক দশকের কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে অনেক মানুষ নিজেদের পিছিয়ে পড়া মনে করছেন। সেই আস্থা ফিরিয়ে আনাই হবে তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
মতামত দিন