আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান। কারাকাসে বিস্ফোরণ, সামরিক ঘাঁটিতে হামলা এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের খবরে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসকে সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই। আমি মানুষকে আঘাত করতে চাইছি না।” তবে সমালোচকরা এটিকে জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন। জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা হুমকি নিষিদ্ধ।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভেনেজুয়েলায় এই পদক্ষেপ ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাবকে আরও স্পষ্ট করেছে। হামলার পর ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে ‘পরিচালনা’ করবে এবং দেশটির তেল সম্পদ ব্যবহার করবে। তার প্রশাসন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সহযোগিতার পথে এগোবে, তবে নীতিগত নির্দেশনা অমান্য করলে ভবিষ্যতে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এবং ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রস্তাবও উল্লেখ করেন। তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম গোলার্ধে নিজের স্বার্থ রক্ষায় ‘নিঃসংকোচে’ সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে।
তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি এই অবজ্ঞা বিশ্বব্যবস্থার জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার মার্গারেট স্যাটারথওয়েট বলেন, মার্কিন বক্তব্যগুলো “অত্যন্ত বিপজ্জনক” এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে