‘এই নিয়ম কীভাবে বানানো হয়েছে জানি না’, লাল কার্ডে ক্ষুব্ধ সুইচ কোচ
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে প্রায় কোণঠাসা করেই ফেলেছিল সুইজারল্যান্ড। ১-১ সমতায় ফেরার পর ম্যাচের গতি ছিল তাদের পক্ষেই। ঠিক তখনই আসে বিতর্কিত সেই মুহূর্ত—দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ব্রিল এমবোলো। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে দুই গোল হজম করে ৩-১ ব্যবধানে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিশ্বকাপ শেষ হলো সুইসদের।
ম্যাচ শেষে তাই আক্ষেপ ঝরেছে আল্পসের দেশটির কণ্ঠে। কোচ মুরাত ইয়াকিনের বিশ্বাস, লাল কার্ডটা না হলে ম্যাচের গল্প ভিন্নও হতে পারত। তিনি মনে করেন, দল তখন আক্রমণাত্মক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছিল, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও ছিল অনেকটা তাদেরই দখলে।
ইয়াকিন বলেন, ‘ম্যাচে যেভাবে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তাতে আমার মনে হয় আমরা প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো খেলেছি। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে আমরা যা দেখিয়েছি, তাতে আমি ভীষণ গর্বিত। আমার দল ও কোচিং স্টাফ—সবাইকে নিয়েই আমি গর্ব করি।’
ঘটনাটি ম্যাচের ৭২ মিনিটের। এমবোলোর সঙ্গে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সংঘর্ষের পর প্রথমে পারেদেসকেই হলুদ কার্ড দেখান রেফারি জোয়াও পিনেইরো। কিন্তু ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া হয়েছে কি না, ভিএআরের হস্তক্ষেপে শুরু হয় সেই পর্যালোচনা। শেষ পর্যন্ত পারেদেসের কার্ড বাতিল করে অভিনয়ের (সিমুলেশন) অভিযোগে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয় এমবোলোকে। মুহূর্তেই ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড। নিয়ম অনুযায়ী, পারেদেস কার্ড দেখেছিলেন বলেই ঘটনাটি ভিএআর পর্যালোচনার আওতায় আসে—আর সেই পর্যালোচনাতেই উল্টে যায় সিদ্ধান্ত। বিশ্বকাপে ১৯৬৬ সালের পর সিমুলেশনের কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে বহিষ্কৃত মাত্র চতুর্থ খেলোয়াড় এমবোলো। ২০০৬ সালে ঘানার আসামোয়া জিয়ানের পর প্রথম।
এই নিয়ম নিয়েই ক্ষোভ ঝরেছে সুইস কোচের কণ্ঠে। ইয়াকিন বলেন, ‘আমাদের পক্ষেই তখন গতি ছিল। আমরা আরও আক্রমণাত্মক পরিবর্তন আনার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু তারপরই লাল কার্ড এল। মনে হয়, আজ ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল না। এই নিয়ম কীভাবে বানানো হয়েছে, সেটাও আমি জানি না। তারপরও এই দলকে নিয়ে আমার গর্বের শেষ নেই।’
১০ জন নিয়েও অবশ্য প্রায় ৫০ মিনিট বীরত্বপূর্ণ রক্ষণে আর্জেন্টিনাকে আটকে রেখেছিল সুইজারল্যান্ড। টাইব্রেকার যখন সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। তখন ১১২ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেসের দুর্দান্ত বাঁকানো শট আর শেষ বাঁশির আগমুহূর্তে লাউতারো মার্তিনেসের গোলে স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের।
১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল সুইজারল্যান্ড। ৭২ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে শেষ চারে যাওয়ার স্বপ্নটা অবশ্য অধরাই রয়ে গেল ইয়াকিনের শিষ্যদের।
মতামত দিন