দারুস সালামে গৃহবধূকে গুলি করেন স্বামী, বলছে র্যাব
রাজধানীর দারুস সালামে নিজ বাসায় গৃহবধূ জেসমিন বেগমকে গুলি করার ঘটনায় তার স্বামী আব্দুল মান্নান ওরফে আব্দুল হান্নানকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সংস্থাটি বলছে, বাইরে থেকে দুর্বৃত্তের গুলি ছোড়ার যে দাবি করা হয়েছিল, তদন্তে তার সত্যতা মেলেনি। পারিবারিক ঝগড়ার একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে মান্নানই স্ত্রীকে গুলি করেন।
শনিবার রাতে মাতবরবাড়ি মসজিদ গলি এলাকায় নিজ বাসায় ডানহাতে গুলিবিদ্ধ হন ৩৮ বছর বয়সি জেসমিন। ঘটনার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে র্যাব।
রোববার বিকেলে ঢাকার কারওয়ানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, তদন্তে তারা জানতে পেরেছেন, জেসমিনকে তার স্বামীই গুলি করেছেন। স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার সময় উত্তেজিত হয়ে একপর্যায়ে তিনি গুলি করেন।
র্যাব জানায়, গুলি করার কয়েক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে আব্দুল মান্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছেলে রাকিবের কাছে অস্ত্রটি হস্তান্তর করা হয়। রাকিব সেটি তার বন্ধু হাতিম মিয়ার বাসায় লুকিয়ে রাখে। পরে র্যাব-৪ ও দারুস সালাম থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে মান্নান ও তার ছেলে রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাকিবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাতিমের বাসায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মান্নানের কাছ থেকে ২১৫টি ইয়াবা উদ্ধার করার কথাও জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-৪-এর অধিনায়ক বলেন, মান্নান বেশিরভাগ সময় মাদকাসক্ত থাকতেন। ঘটনার দিন রাতেও তিনি মাতাল অবস্থায় বাসায় ফেরেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে তিনি গুলি করলে তা জেসমিনের ডান হাতের বাহুতে লাগে।
মান্নানকে এলাকার ‘কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী’ দাবি করে র্যাব কর্মকর্তা বলেন, অস্ত্র ব্যবহার করে তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় তিনটি মামলা রয়েছে।
ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, জেসমিন জানালা খোলা রেখে টেলিভিশন দেখছিলেন। এ সময় বাইরে থেকে দুর্বৃত্তরা জানালা দিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়। তবে র্যাব বলছে, তদন্তে ঘটনাটি ঘরের ভেতরেই ঘটেছে। নিজেদের বাঁচাতে জানালা দিয়ে দুর্বৃত্তের গুলি ছোড়ার গল্প তৈরি করা হয়েছিল বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।
র্যাব আরও জানিয়েছে, জেসমিনের মাদক সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য তারা পায়নি। বরং মান্নানের মাদক ব্যবসা ও মাদকাসক্তিকে কেন্দ্র করে তাদের সংসারে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো বলে আশপাশের মানুষের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে আমিনবাজারে পুলিশের এসবির উপপরিদর্শক আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার বিষয়েও কথা বলেন র্যাব-৪-এর অধিনায়ক। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছেন, মাদকাসক্ত অবস্থায় থাকা কয়েকজনের হামলায় আলতাফের মৃত্যু হয়েছে। একটি অটোরিকশার চালকের সঙ্গে তাদের ঝগড়া চলাকালে আলতাফ বিষয়টি মীমাংসা করতে গেলে তার ওপর হামলা করা হয়। একপর্যায়ে আশপাশের লাঠি দিয়ে আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় প্রধান আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাত ৮টার দিকে আমিনবাজারের বরদেশি মদিনা হাউজিং এলাকায় গেঞ্জি তৈরির কারখানার সামনে প্রাইভেটকার রাখা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ মেটাতে গিয়ে আলতাফ ও তার ছেলে হামলার শিকার হন। পরে রোববার ভোরে প্রাইভেটকারের চালক ও মালিক জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মতামত দিন