যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
রাজধানীর কামরাঙ্গীচরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে সায়েদ আহমেদ নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মশিউর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে এই অর্থ তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলাম করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এরশাদ আলম জর্জ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিন আসামি পক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি টিটু রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জেরা করেন। তিনি আদালতকে বলেন, ভুক্তভোগীর মৃত্যু মূলত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগের কারনে হয়েছে। আসামি তাকে যৌতুকের কারণে হত্যা করেনি। বাদী আসামিকে হয়রানি করার জন্য মামলা দিয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১০ সালে রেহানা বেগমের সঙ্গে সায়েদ আহমেদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সায়েদ তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো। ২০১২ সালের ২৯ জুন রেহানার মা মেয়ের বাড়িতে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পান। ওই সময় আসামিরা রেহানার মৃত্যু স্ট্রোকের কারণে হয়েছে বলে দাবি করেন এবং তড়িঘড়ি করে আজিমপুর গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন করেন।
পরে রেজিয়া বেগম বাদী হয়ে ২০১২ সালের ৩ অক্টোবর কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে তিনি ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে লাশ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্ত করা হলে বেরিয়ে আসে, রেহানাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
তদন্ত শেষে সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক লুৎফর রহমান আসামি সায়েদ আহমেদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১১(ক) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১১ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করে।
শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত পর্যবেক্ষণে জানান, যৌতুকের দাবিতে এই হত্যাকাণ্ড সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা মূলে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে