সংবিধান সংশোধনের পর পদত্যাগে সম্মত হাঙ্গেরিরি প্রেসিডেন্ট টমাস সুলিয়ক
হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট টমাস সুলিয়ক সংবিধানের ১৭তম সংশোধনীতে স্বাক্ষরের পর পদত্যাগে সম্মত হয়েছেন। সংশোধনী অনুযায়ী, রোববার (১৯ জুলাই) মধ্যরাত থেকে তার দায়িত্বের মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে।
টমাস সুলিয়ককে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে পিটার মাজিয়ারের নেতৃত্বাধীন তিসজা পার্টি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জনের মাধ্যমে অরবানের টানা ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটায়।
ক্ষমতায় এসে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তিসজা পার্টি পার্লামেন্টে সংবিধানের ১৭তম সংশোধনী পাস করে। প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ারের দাবি, জনগণ তাকে অরবানের গড়ে তোলা ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে দেওয়ার সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছে। তার মতে, প্রেসিডেন্ট সুলিয়কের নেতৃত্বের প্রতি সমাজে ‘তীব্র আস্থার সংকট’ তৈরি হয়েছিল।
সংবিধানের এই সংশোধনীতে শুধু প্রেসিডেন্টের দায়িত্বের অবসানই নয়, আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনা হয়েছে। আইনপ্রণেতাদের দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সাংবিধানিক আদালতের বিচারকদের অবসরের বয়সসীমা ৭০ বছর করা হয়েছে। নতুন নিয়মের ফলে অরবানের আরেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী পিটার পোল্টকেও অবসরে যেতে হবে।
সোমবার থেকে হাঙ্গেরির পার্লামেন্ট ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার অ্যাগনেস ফরস্টহফার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য পার্লামেন্ট এক মাস সময় পাবে।
পদত্যাগের আগে ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় টমাস সুলিয়ক জানান, তিনি সংবিধান সংশোধনীতে স্বাক্ষর করেছেন, কারণ এটি আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পাস হয়েছে। তবে তিনি এই আইনের কড়া সমালোচনা করেন এবং বলেন, স্বাক্ষর না করলে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারত, ফলে তার নির্বাহী ক্ষমতা তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত হয়ে যেত।
অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এই সংস্কারের তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেছেন, হাঙ্গেরিতে এখন আর গণতান্ত্রিক আইনের শাসন নেই। স্বৈরতন্ত্র এখন আর কোনো হুমকি নয়, বরং এটি বাস্তবতা।
তবে প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ারের বক্তব্য, এই সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও জবাবদিহিমূলক ও নাগরিকসেবামুখী করা সম্ভব হবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করে দ্রুত সংবিধান পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়া হাঙ্গেরিতে অরবান আমলের বিতর্কিত শাসনব্যবস্থার কথা মনে করিয়ে দেয়।
মতামত দিন