লোডশেডিংকে বিরক্তি নয়, কাজে লাগাবেন যেভাবে
জ্বালানি ও গ্যাসের সংকটে দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে দিনের ব্যস্ত সময় থেকে শুরু করে রাতের বিশ্রামের সময়ও অনেককে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে। গরমের মধ্যে এমন পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই বিরক্তি, অস্বস্তি ও মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সচেতন অভ্যাস গড়ে তুললে লোডশেডিংয়ের সময়টিকে মানসিক প্রশান্তি ও শরীরচর্চার জন্যও কাজে লাগানো সম্ভব।
বিদ্যুৎ না থাকায় স্মার্টফোন, কম্পিউটার বা টেলিভিশনের ব্যবহার কমে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের স্বাস্থ্যবিষয়ক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে থাকার এই সময়কে ‘ডাউনটাইম’ হিসেবে কাজে লাগানো যায়। স্ক্রিনের ব্যবহার বন্ধ থাকলে মস্তিষ্কের ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায়, যা চিন্তাভাবনা, সৃজনশীলতা ও স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন কাজে ভূমিকা রাখে। বই পড়া কিংবা ধাঁধা সমাধানের মতো অফলাইন কাজও মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
লোডশেডিংয়ের সময় শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকাও উপকারী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের বিভিন্ন স্বাস্থ্যতথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত শরীরচর্চা মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সহায়তা করে। বিদ্যুৎ না থাকার সময়ে ঘরের বাইরে নিরাপদ পরিবেশে হালকা হাঁটা, স্ট্রেচিং কিংবা যোগব্যায়াম করা যেতে পারে। এতে শরীর সচল থাকার পাশাপাশি মনও কিছুটা ভালো থাকতে পারে।
বিদ্যুৎহীন সময়কে পরিবারের সঙ্গে কাটানোর সুযোগ হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ এক পাশে রেখে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি গল্প করা, বই পড়া কিংবা লুডু, দাবা ও ক্যারামের মতো খেলায় সময় কাটানো যেতে পারে। এতে স্ক্রিনের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগও বাড়তে পারে।
সঙ্গীতও মানসিক চাপ কমানোর একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। পছন্দের গান শোনা, গুনগুন করে গান করা কিংবা বাদ্যযন্ত্র বাজানোর মতো কাজে মনোযোগ দিলে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিরক্তি থেকে মন সরিয়ে নেওয়া সম্ভব। শান্ত ধরনের সুর বিশেষ করে বিশ্রামের সময় মানসিক প্রশান্তি আনতে সহায়ক হতে পারে।
তবে লোডশেডিংয়ের সময় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়। ফ্রিজের দরজা অপ্রয়োজনে বারবার খোলা ঠিক নয়। বিদ্যুৎ না থাকলে খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই দরজা যতটা সম্ভব বন্ধ রাখা প্রয়োজন। ঘরের ভেতরে জেনারেটর, কয়লা বা অন্য কোনো জ্বালানি পোড়ানোও বিপজ্জনক। এতে কার্বন মনোক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস জমে গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আগুনের ঝুঁকি কমাতে মোমবাতির পরিবর্তে রিচার্জেবল লাইট বা নিরাপদ বিকল্প আলোর ব্যবস্থা ব্যবহার করাই ভালো।
সব মিলিয়ে, লোডশেডিং অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও এর সময়টিকে পুরোপুরি অকার্যকর করে না রেখে বই পড়া, হালকা শরীরচর্চা, গান শোনা কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে বিদ্যুৎ না থাকার বিরক্তি কিছুটা কমার পাশাপাশি শরীর ও মনের জন্যও ইতিবাচক সময় তৈরি হতে পারে।
মতামত দিন