কালবৈশাখী ঝড় মোকাবিলায় সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন যেভাবে
পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বরফঝড়, তুষারঝড় বা ধুলোঝড় দেখা গেলেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে এসব ঝড় হয় না। তবে গ্রীষ্মের শুরুতেই, মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হানা দেয় প্রলয়ংকরী কালবৈশাখী। এই ঝড় অনেক সময় প্রাণঘাতী রূপ ধারণ করে; কারণ কালবৈশাখীর বায়ুর গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ১০০ কিলোমিটারও ছাড়িয়ে যায়।
এই তাণ্ডবে সব পেশার মানুষ কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েন গ্রাম ও চরাঞ্চলের কৃষক ও জেলেরা। ঝড়ের তীব্রতায় গাছ উপড়ে ঘরের ওপর পড়ায় ঘরের ভেতরে থাকা মানুষজন যেমন হতাহত হন, তেমনি কাঁচা ঘরবাড়িরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এমনকি কালবৈশাখীর ছোবলে প্রাণ হারায় গৃহপালিত গবাদিপশুও। এর সাথে দোসর হিসেবে যোগ হয় শিলাবৃষ্টি, যা মাঠের পর মাঠ ফসল নিমিষেই ধ্বংস করে দেয়।
এজন্য জীবন ও সম্পদের এই অপূরণীয় ক্ষতি এড়াতে কালবৈশাখী মোকাবিলায় যা যা করণীয়—
১. নিয়মিত আবহাওয়া বার্তা শুনুন, যাতে জেলে ও মাঝিরা গভীর সমুদ্রে বা নদীতে থাকলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে
আসতে পারেন।
২. বসতঘরের আশেপাশে পুরনো বা পচা গাছ থাকলে তার ডালপালা আগেই ছেঁটে ফেলুন, যেন ঝড়ে ঘর বা মানুষের ওপর
ভেঙে না পড়ে।
৩. ঝড় শুরু হওয়ার আগেই গরু-ছাগলকে নিরাপদ গোয়ালঘরে বা উঁচু জায়গায় সরিয়ে নিন।
৪. টর্চলাইট, ম্যাচবক্স, মোমবাতি, শুকনো খাবার এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম হাতের কাছে রাখুন।
৫. গুরুত্বপূর্ণ যেসব কাগজ, যেমন পরীক্ষার সার্টিফিকেট, নম্বরপত্র, গুরুত্বপূর্ণ বই, দলিলপত্র ইত্যাদি নিরাপদে রাখা বা
পলিব্যাগের ভেতর মুড়িয়ে রাখা।
৬. অনিরাপদ বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা। ধারালো ভাঙা জিনিস সরিয়ে রাখা, যাতে আঘাত না পান।
৭. পানি ফুটিয়ে রাখা এবং শুকনা খাবার সংরক্ষণ করা। ঝড় যদি দীর্ঘমেয়াদি হয়, সেই সময় সেগুলো কাজে দেবে।
৮. ঝড়-বৃষ্টির সময়ে ঘরের বাইরে বেরোবেন না। যদি বের হতেই হয় তাহলে সঙ্গে ছাতা রাখা ভালো।
৯. ঝড়ের সময়ে বাড়ির ইলেক্ট্রিক কানেকশন বন্ধ করে দিন। মেইন সুইচ বন্ধ রাখুন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে