Views Bangladesh Logo

সৌদি আরবের জাজান তেল শোধনাগারে হুথিদের ড্রোন হামলা

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর জাজান তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র দুই দিনের মাথায় এই হামলার ঘটনা ঘটল।

রোববারের হামলায় শোধনাগারটিতে আগুন ধরে যায়। তবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়। হামলার পর কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।

তবে হামলার দায় স্বীকার করেছে হুথিরা। সংগঠনটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানান, ড্রোন ব্যবহার করে জাজান তেল শোধনাগারে হামলা চালানো হয়েছে।

একই সময়ে লোহিত সাগরের ইয়েমেনি বন্দরনগরী মোখায়ও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথিরা। ইয়াহিয়া সারির দাবি, মোখা এলাকায় অবস্থানরত সৌদি সেনা ও অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়।

তবে ইয়েমেনে হুথিদের এই হামলার বিষয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ইয়েমেনি সরকারি সূত্রের দাবি, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাণিজ্যিক জেটি ও গুদামের দিকে আসা কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করেছে।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট-সমর্থিত এডেন সরকারের অনুগত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মোখা বন্দর। এর আগে গত ২৭ জুলাইও হুথিদের হামলার শিকার হয়েছিল বন্দরটি।

আইআইআর কনসালটেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর জাজান তেল শোধনাগারটি কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিল। এর মধ্যেই নতুন করে শোধনাগারটিতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটল।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার শর্ত নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই গত মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে লোহিত সাগরে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিল হুথিরা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও দেশটির মিত্র শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। ফলে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কার মধ্যেই শুক্রবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তবে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, চুক্তিটি ইরান বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। এটি তিন দেশের মধ্যে একটি সাধারণ যৌথ নিরাপত্তা অঙ্গীকার।

সাম্প্রতিক হুথি হামলার পর সৌদি আরবের নিরাপত্তায় পাকিস্তান ও তুরস্ক কী ধরনের সহায়তা দেবে, তা পরিস্থিতি ও যৌথ আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফলে নতুন এই ড্রোন হামলা শুধু সৌদি আরবের তেল স্থাপনার নিরাপত্তা নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো এবং সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সমীকরণ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সূত্র: রয়টার্স

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ