রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে এ দাবি করেন।
বিবৃতিতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সারি বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং এতে বিমানবন্দরের উড়োজাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। তবে হামলা ঠিক কখন হয়েছে, তাতে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি। হুথিদের এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। একই দিনে গোষ্ঠীটি ইয়েমেনের অন্তর্বর্তী সরকারের রাজধানী এডেনে বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি এলাকাতেও হামলার কথা জানিয়েছে।
চলতি মাসের শুরু থেকেই সৌদির বিমানবন্দরগুলো হুথিদের নিশানায়। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৬ ও ৭ অক্টোবরের হামলায় আবহা ও কিং খালিদ বিমানবন্দরে তিনজন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন সুদানি নাগরিক এবং মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুই বাসিন্দা ছিলেন।
সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাটি হয় শনিবার, ১০ অক্টোবর। এতে রিয়াদ বিমানবন্দরে অন্তত ১৩ জন নিহত ও ৩০০–এর বেশি মানুষ আহত হন বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আহতের সংখ্যা ৩০৯ জন বলে উল্লেখ করেছে। গত এক দশকের বেশি সময়ে সৌদি আরবে এটি সবচেয়ে মারাত্মক হামলা। ঘটনার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয় এবং সব ফ্লাইট অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরদিন রোববার বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনালে আবারও আঘাত হানে একটি প্রজেক্টাইল। এতে আগুন ধরে একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হন। এরপর কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দর বন্ধ থাকবে। ১২ অক্টোবর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার কথা জানায়।
এ হামলার পর দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা অজ্ঞাতনামা থাকার শর্তে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, সৌদি আরব তদন্ত শুরু করেছে। এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কীভাবে রিয়াদে পৌঁছাল এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেন আগাম সতর্কসংকেত দিতে পারেনি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ২০১৫ সাল থেকে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়ছে। রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের বড় অংশ ২০১৪ সাল থেকে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে। জুলাই থেকে দুই পক্ষের সংঘাত নতুন করে বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে রিয়াদ বিমানবন্দর এলাকায় হামলার ঘটনাও ঘটেছিল। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) হিসাবে, সাম্প্রতিক লড়াইয়ে ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে।
মতামত দিন