ইয়েমেনের কারাগারে সৌদি বিমান হামলায় নিহত ৭, দাবি হুথিদের
ইয়ামেনের উত্তরাঞ্চলের একটি কারাগারে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এতে এক শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা।
হুথি পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসকাহি নিশ্চিত করেছেন, আল-জাওফ প্রদেশের রাজধানী আল-হাজমের ‘সেন্ট্রাল কারেক্টিভ ফেসিলিটি’তে এই হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় এক নারীসহ আরও অন্তত সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরা টেলিভিশনে প্রচারিত দৃশ্যচিত্রে দেখা যায়, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কারাগারের ভবন ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
কারাগারের প্রধান কর্মকর্তা জানান, ভবনের নিচে অন্তত ৩৫ জন কয়েদি ও স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা এক নারী আটকা পড়েন।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়াহ সারে অভিযোগ করে বলেন, জাওফ এলাকায় বিমান হামলা চালানোর পাশাপাশি সৌদি আরব বিদ্রোহী দমনে ভাড়াটে সেনাদের অস্ত্র ও নজরদারি ড্রোন সরবরাহ করছে। ইয়েমেনের ওপর সৌদি আগ্রাসন কোনোভাবেই পার পাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তবে এ বিষয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
পরবর্তীতে হুথি মুখপাত্র আরও দাবি করেন, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা চারটি সৌদি নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করেছেন।
ইয়েমেন সরকার সমর্থিত যৌথ বাহিনী জাওফ, বায়দা, দাহলে ও মারিব সীমান্তে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যেই এসব ঘটনা ঘটছে।
এদিকে সংঘাত বাড়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যানস গ্রুন্ডবার্গ। সব পক্ষকে সামরিক তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যাপক মাত্রার লড়াইয়ে ফিরে যাওয়াটা বেসামরিক নাগরিকদের জন্য করুন পরিণতি বয়ে আনবে। এতে রাজনৈতিক সমাধানের পথটি আরও রুদ্ধ হয়ে পড়বে।
উল্লেখ্য, ইয়েমেনের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে কারাগারে হামলার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২২ সালে সাদাহ প্রদেশের একটি বন্দিশিবিরে জোট বাহিনীর হামলায় অন্তত ৮৭ জন কয়েদি মারা যান। ২০১৯ সালেও ধামারের একটি কারাগারে হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন শতাধিক মানুষ।
মতামত দিন