Views Bangladesh Logo

হুথিদের হামলায় পরীক্ষার মুখে সৌদি আরবের ‘মক্কা চুক্তি’ জোট

সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলা বহুল আলোচিত ‘মক্কা চুক্তি’র গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। জোটের নীতি অনুযায়ী যেকোনো সদস্য দেশের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করার কথা থাকলেও সৌদি ভূখণ্ডে হামলার পর মিত্রদের জোরালো সামরিক পদক্ষেপ না দেখা যাওয়ায় এই সংশয় তৈরি হয়েছে।

গত সপ্তাহে সৌদি আরবের চারটি গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালায় হুথিরা। এতে সাধারণ নাগরিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের প্রধান সরবরাহকারী দেশটির ওপর এই হামলা যেমন তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, তেমনই তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে গঠিত রিয়াদের নতুন প্রতিরক্ষা জোটটিকেও বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে।

হামলার পরপরই আঙ্কারা ও ইসলামাবাদ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রিয়াদের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে। তবে সরাসরি কোনো সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া থেকে বিরত রয়েছে দেশ দুটি।

কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক বা পাকিস্তান আপাতত এই সংঘাতের ময়দানে সরাসরি জড়িয়ে পড়বে—এমন সম্ভাবনা কম। তার বদলে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানসহ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোন প্রযুক্তি দিয়ে সৌদি আরবকে সহায়তা করতে পারে মিত্র দেশ দুটি।

তবে নিজস্ব ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাতের পরও জোটের পারস্পরিক যৌথ প্রতিরক্ষা ধারা (কলেক্টিভ ডিফেন্স ক্লাজ) কেন সক্রিয় করা হলো না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হুথিদের হামলা যদি অব্যাহত থাকে, তবে চুক্তির অনুযায়ী আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের ওপর চাপ আরও বাড়বে। এখন মূল প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে—এই ‘মক্কা চুক্তি’ কি শুধুই একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, নাকি কোনো আক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর সামরিক ব্যবস্থা। ফলে হুথিদের এই আক্রমণ কেবল সৌদি আরবের জন্য কোনো সামরিক হুমকি নয়, বরং নতুন গড়ে ওঠা জোটটির প্রস্তুতি, সক্ষমতা ও শক্তির এক বড় পরীক্ষা।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ