Views Bangladesh Logo

নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা

তুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। অবশ্য একেবারে নতুন সরকার নয়। নতুন নির্বাচনে জয়ী হওয়া, নতুন করে শপথ নেয়া হলেও এই সরকার আগের তিনটি সরকারেরই ধারাবাহিকতা। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার টানা চার মেয়াদে ক্ষমতায় এলো। আর পঞ্চমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

অতএব, এ সরকার আগের সরকারের ধারাবাহিকতায় পরিচালিত হবে–সেটাই স্বাভাবিক। আগের মেয়াদের সরকারের যেসব কাজ অসম্পূর্ণ ছিল, সেগুলো সম্পন্ন করার দিকেই নতুন সরকার জোর দেবে। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নতুন করে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে বলেছেন, ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণই হবে নতুন সরকারের প্রথম কাজ’।

নিঃসন্দেহে আগের মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি একটা বড় সমস্যা ছিল। মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার দাম বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার বিষয়টি বার বার গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে। এ কারণে অবশ্যই দ্রবমূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নতুন সরকারের কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো দেশের বাজারে প্রায়ই কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই হুট করে কোনো একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে যায়। কখনো চিনি, কখনো ভোজ্যতেল, কখনো পেঁয়াজ, কখনো কাঁচামরিচ, আলু, কখনো ডিমের দাম হঠাৎ করেই আকাশছোঁয়া হয়ে যায়।

গণমাধ্যমের বহু অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী এই হঠাৎ মূল্য বৃদ্ধির পেছনে আছে একটি অসাধু সিন্ডিকেট। কম সময়ে বেশি মুনাফা লাভের কারসাজি থেকেই এরা সরকার ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে হুট করে দাম বাড়িয়ে দেয়। এই সিন্ডিকেটে কারা আছে, তাও অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা গেলে দ্রব্যমূল্যের অযৌক্তিক ও অযাচিত মূল্য বৃদ্ধি ঠেকানো যাবে; কিন্তু এই সিন্ডিকেট আগের মতোই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।

সরকারের আগের মেয়াদে তো বটেই, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের বড় একটি সমস্যা সড়কে বিশৃঙ্খলা। সম্ভবত, বিগত ৫২ বছরে এমন একটা দিন খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেদিন দেশে সড়কে দুর্ঘটনায় অকালে প্রাণ ঝড়ে যায়নি! ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন ছোঁয়ার পর এখন স্মার্ট বাংলাদেশের পথে যাত্রা শুরু হয়েছে। ধারাবাহিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির পথ ধরে বাংলাদেশ স্বল্পন্নোত দেশ থেকে উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। সবক্ষেত্রে এত উন্নয়ন, অগ্রগতি; কিন্তু খোদ রাজধানী ঢাকার চরম বিশৃঙ্খল সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং রুগণ পাবলিক বাস সার্ভিসের কোনো উন্নতিই হয়নি। ফলে সরকারের বড় বড় সাফল্যের অনেক কিছুই এই রুগণ চেহারার গণপরিবহন এবং বিশৃঙ্খল সড়ক আড়াল করে দিচ্ছে।

অবশ্যই সড়ক ব্যবহারকারীর অসচেতনতাই সড়ক দুর্ঘটনার বড় কারণ; কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে, সড়ক শুধু পথচারী ব্যবহার করে না, গাড়ির চালকরাও ব্যবহার করে। গণমাধ্যমে বহু অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এসেছে, যেখানে দেখা যায়, নিম্নমানের বাস, দৈনিক চুক্তিভিত্তিক অপ্রশিক্ষিত চালকই সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা চিহ্নিত করেছেন। পরিবহন খাত ঘিরে থাকা একটি সিন্ডিকেট আছে। এই সিন্ডিকেটই দুর্নীতির মাধ্যমে নিম্নমানের বাস এবং নিয়োগপত্রবিহীন চুক্তিভিত্তিক অপ্রশিক্ষিত চালক দিয়ে গাড়ি চালাতে বাধ্য করছে।

কারণ যথাযথ প্রশিক্ষিত চালককে মাসিক বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাসহ নিয়োগপত্র দিয়ে নিয়োগ করতে হয়, যেটা সিন্ডিকেটের হীন স্বার্থের পরিপন্থি। ঢাকার রাস্তায় ট্যাক্সিক্যাব চোখে পড়ে না, এর বদলে যে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলে, তা অত্যন্ত আনস্মার্ট এবং খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এর বাইরে দেশে লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইক নামের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন সড়ক-মহাসড়কে ছেয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সড়কে ইজিবাইক দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি ঘটছে।

নতুন সরকারের প্রাধান্যের তালিকায় অবশ্যই যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে সড়কে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি থাকা জরুরি। পাশাপাশি সড়ক ঘিরে থাকা বিশেষ সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলা এবং আধুনিক প্রযুক্তির বাস-ট্রাক, ট্যাক্সিক্যাব ব্যবহারের মাধ্যমে স্মার্ট গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মানবাধিকার সুরক্ষা, সুশাসন এবং আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের প্রাধান্যের তালিকায় থাকা উচিত।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ