Views Bangladesh Logo

উচ্চ শুল্কহার: ডিম, আলু, পেঁয়াজের দাম প্রভাব ফেলছে না বাজারে

বাজার অস্থিতিশীল হয়ে যাওয়ায় প্রথমবারের মতো ডিম, আলু ও দেশি পেঁয়াজের দাম বেঁধে দিয়েছিল সরকার। তাতেও পণ্যগুলোর মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। এরপর বাজারে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে আমদানিতে উচ্চ শুল্কহারের কারণে এর প্রভাব পড়ছে সামান্যই।

যদিও এই তিনটি পণ্য আমদানিতে শুল্ক কমানোর জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়টি তেমন আমলে নিচ্ছে না এনবিআর। অন্যদিকে এ খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বাভাবিক সময়ে এবং সংকটকালীন সময়ে একই ধরনের শুল্ক থাকতে পারে না। শুল্ক আরোপের এই নীতি থেকে বের হয়ে আসা দরকার।

বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ডিম, আলু ও দেশি পেঁয়াজের দাম বেঁধে দিয়েছে সরকার। বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী, প্রতিটি ফার্মের ডিম ১২ টাকা, আলু খুচরা পর্যায়ে ৩৫-৩৬ টাকা (হিমাগার পর্যায়ে ২৬-২৭) এবং দেশি পেঁয়াজের দাম হওয়ার কথা ছিল ৬৪-৬৫ টাকা।

কিন্তু এই দরে বাজারের কোথাও পণ্য বিক্রি হতে দেখা যায়নি। এরপর অনেকটা বাধ্য হয়ে আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। তাতেও শুল্ক বাধায় খুব একটা সুফল পায়নি সাধারণ মানুষ। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফার্মের মুরগির ডিমের হালি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। দেশি পেঁয়াজ কেজি ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা, আমদানি পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১১০ টাকা। আর আলুর কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দেখানো হয়েছে। যদিও বাজারে এসব পণ্যের দাম আরও বেশি।

বর্তমানে ডিম ও আলু আমদানিতে ৩৩ শতাংশ শুল্ককর আরোপিত আছে। এ ছাড়া পেঁয়াজ আমদানিতে এই শুল্কহার ১০ শতাংশ।

এ ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা মোটেও যৌক্তিক নয় বলে মনে করেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। তিনি ‘ভিউজ বাংলাদেশ’কে বলেন, শুল্ক আরোপ না করে সংকটকালীন সময়ে শুল্ক ছাড় দিয়ে বাজারকে স্থিতিশীল রাখার জন্য খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ডিম আমদানি বিলম্ব হওয়ার মূল কারণ এটাই। শুল্ক বেশি হওয়ার কারণে যারা ডিম আমদানির অনুমতি পেয়েছে, তারা কিন্তু আমদানি করেনি। শুল্ক ছাড় দেওয়া হলে এই সংকটের সমাধান শুরুতেই হয়ে যেত।

তিনি বলেন, নির্দিষ্ট যে আমদানি শুল্ক সেটাকে সহনীয় করা দরকার। যখন আমাদের সংকট হবে, তখন আমদানি শুল্ক কমে যাবে। আবার যখন স্বাভাবিক হবে, তখন স্বাভাবিক নিয়মে চলবে। আপনি একটা শুল্ক হার নির্ধারণ করলেন, এটা সারাবছর চলবে-এই নীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

তবে বাজেটের আগে এসব পণ্যের শুল্কহার কমানো নিয়ে ভাবছে না এনবিআর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা ‘ভিউজ বাংলাদেশ’কে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কিছুদিন পরপরই বিভিন্ন পণ্যের শুল্ক কমানোর জন্য চিঠি দেয়। কিছু বিষয় এনবিআর আমলে নেয়, কিছু বিষয় নেয় না। বাজার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। তারা এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে শুল্ক, ভ্যাট কমানোর জন্য চিঠি লেখে। অথচ তারা নিজের দায়িত্ব পালন করলে এ সমস্যা হতো না। আমদানিরও প্রয়োজন ছিল না। এসব পণ্যে শুল্ক কমবে কি না, তা বাজেটের আগে বিবেচনার সুযোগ নেই।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ