সরকারি কার্যক্রমে ন্যায়পাল নিয়োগে নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট
সরকারি দপ্তরগুলোতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা তদন্তের জন্য ন্যায়পাল নিয়োগে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আদালত একই সঙ্গে জানতে চেয়েছেন, সংবিধানে ন্যায়পাল নিয়োগের বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়ন না করার কারণ কী।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান দায়ের করা একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে এ রুল জারি করা হয়।
রিটে বলা হয়, সরকারি সেবায় হয়রানি, অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, সেবাদানে দেরি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অসংখ্য অভিযোগ থাকলেও তা নিষ্পত্তির জন্য এখনো কোনো স্বাধীন ন্যায়পাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, সংবিধানে ন্যায়পাল নিয়োগের কথা থাকলেও এবং ১৯৮০ সালে এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হলেও স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও তা কার্যকর হয়নি, যা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।
আবেদনকারী পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি স্বাধীন ন্যায়পাল ব্যবস্থা থাকলে সরকারি প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর সুযোগ তৈরি হতো। দীর্ঘদিনের এ নিষ্ক্রিয়তা সুশাসনের নীতি এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী বলেও রিটে দাবি করা হয়।
আদালত রুলে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন—সাংবিধানিক নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ন্যায়পাল নিয়োগে কেন অগ্রগতি হয়নি এবং কেন এ নিষ্ক্রিয়তাকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে