বর্ষবরণে হত্যা হামলায় দশজনের সাজা কমালেন হাইকোর্ট, একজনের বহাল
রাজধানীর রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় ১০ জনকে হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা তাজ উদ্দিনকে সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা দিয়েছেন হাইকোর্ট।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শাহাদাতউল্লাহ জুয়েলের সাজা বহাল থাকলেও মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত জীবিত অন্য নয়জনেরও সাজা কমিয়ে দশ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তারা হলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরিফ হাসান সুমন, মো. তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, আবদুল হাই ও শফিকুর রহমান এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হান্নান সাব্বির, শেখ ফরিদ ও আবু তাহের।
বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষনেতা মুফতি আব্দুল হান্নানের অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া আব্দুর রউফ ও ইয়াহিয়া হাইকোর্টে আপিল শুনানি অপেক্ষমাণ থাকা অবস্থায় মারা যাওয়ায় এই তিনজনের নাম মামলা থেকে বাদ যায়।
প্রধান আসামি মুফতি হান্নান ছিলেন সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল রাতে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
মামলাটির ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার (১৩ মে) এ রায় ঘোষণা করেন। জজ আদালতে আটজনকে দেয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আবেদন খারিজ করে এবং আসামিদের আপিল মঞ্জুর করে এই রায় দেয়া হয়।
২০০১ সালে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ১৪ জঙ্গির বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়।
এর মধ্যে ২০১৪ সালের ২৩ জুন হত্যা মামলাটির রায়ে মুফতি হান্নানসহ আটজনের মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. রুহুল আমিনের আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুফতি আব্দুল হান্নান, মাওলানা আকবর হোসাইন, মুফতি আব্দুল হাই (পলাতক), হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর (পলাতক), মাওলানা আবু বকর, মুফতি শফিকুর রহমান (পলাতক), মাওলানা তাজউদ্দিন (পলাতক) ও আরিফ হাসান সুমনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করাও হয়।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা সাব্বির, হাফেজ ইয়াহিয়া, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মাওলানা আব্দুর রউফ ও মাওলানা শাহাদাৎ উল্লাহ জুয়েলকেও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ মে) প্রথম দিন মামলার সাক্ষ্য ও জেরাসহ আংশিক রায় পাঠ করেন এবং বাকি অংশ ঘোষণায় ১৩ মে দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।
আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিলের শুনানি শেষে ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন হাইকোর্ট। ৩০ এপ্রিল কার্যতালিকায় উঠলেও রায়ের দিন ৮ মে ধার্য করে দেয়া হয়।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে