হ্যারি কেইনের আলোয় ঝলমলে ব্যালন ডি’অরের রাত
গোলের পর গোল, রেকর্ডের পর রেকর্ড—অসাধারণ এক মৌসুমের স্বীকৃতি মিলল এবার ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরে। তারুণ্যের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী লামিনে ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো সোনার বল জিতলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
পুরুষদের ফুটবলে ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ব্যালন ডি’অর জয়ের রাতে আলো ছড়ালেন নারী ফুটবলের স্প্যানিশ তারকা অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াসও। তাঁর হাতে উঠেছে তৃতীয়বারের মতো নারী ব্যালন ডি’অর।
সোমবার রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে বসেছিল ব্যালন ডি’অরের ৭০তম আসর। ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এবারই প্রথম ফরাসি রাজধানী প্যারিসের বাইরে, যুক্তরাজ্যের লন্ডনে দেওয়া হলো পুরস্কার।
১৯৫৬ সালে প্রথম ব্যালন ডি’অরজয়ী ইংলিশ কিংবদন্তি স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউসের স্মরণে এবারের আয়োজনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলা হয়।
বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে ২০২৫-২৬ মৌসুমে কেইন ছিলেন গোলমেশিন। ক্লাবের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫১ ম্যাচে করেছেন ৬১ গোল। ইংল্যান্ডের হয়ে যোগ করেছেন আরও ১২ গোল। সব মিলিয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোলের অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান তাঁকে এনে দিয়েছে ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের এই মুকুট।
বায়ার্নের ঘরোয়া লিগ ও কাপ জয়ের পেছনেও ছিল তাঁর বড় অবদান। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে ছয় গোল করে দলকে সেমিফাইনালে তোলার পথেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এই স্ট্রাইকার।
ব্যালন ডি’অর জয়ের মধ্য দিয়ে ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে পুরস্কারটি পেলেন কেইন। সব মিলিয়ে পঞ্চম ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন তিনি। এর আগে স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউস, স্যার ববি চার্লটন, কেভিন কিগ্যান ও ওয়েনের হাতে উঠেছিল পুরুষদের ব্যালন ডি’অর। এবারের ভোটে দ্বিতীয় হয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, তৃতীয় স্পেনের লামিনে ইয়ামাল। চতুর্থ রদ্রি ও পঞ্চম লিওনেল মেসি।
পুরস্কার হাতে নিয়ে আবেগাপ্লুত কেইন বলেন, লন্ডনে এই স্বীকৃতি পাওয়া তাঁর কাছে বিশেষ কিছু। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও দীর্ঘ যাত্রার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন এই অর্জনকে। স্ত্রী কেট, পরিবার, বায়ার্ন মিউনিখ, ইংল্যান্ড দল এবং সাবেক ক্লাব টটেনহ্যামের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
নারী ফুটবলে আলো নিজের দিকে টেনে নেন অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস। ২০২১ ও ২০২২ সালের পর এবার তৃতীয়বার নারী ব্যালন ডি’অর জিতলেন স্পেনের এই মিডফিল্ডার। বার্সেলোনার হয়ে গত মৌসুমে ঘরোয়া লিগ, কোপা দে লা রেইনা, স্প্যানিশ সুপার কাপ ও নারী চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে তাঁর অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। পরে জুলাইয়ে লন্ডন সিটি লায়নেসেসে যোগ দেন তিনি। এই পুরস্কার জয়ের মধ্য দিয়ে নারী ফুটবলে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করলেন পুতেয়াস।
তবে রাতটি শুধু কেইন ও পুতেয়াসের ছিল না। তরুণদের পুরস্কারে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন ইয়ামাল। নারী বিভাগে নজর কেড়েছেন বার্সেলোনার ভিকি লোপেজ। গোলরক্ষক, কোচ, ক্লাব ও মানবিক কাজের স্বীকৃতিতেও ছিল তারকাদের সাফল্য।
ব্যালন ডি’অরের এই রাত তাই কেবল ব্যক্তিগত পুরস্কার বিতরণের অনুষ্ঠান নয়; এটি ছিল ধারাবাহিকতা, অধ্যবসায়, দলীয় সাফল্য আর স্বপ্নপূরণের গল্প। কেইনের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, পুতেয়াসের জন্য নতুন করে ইতিহাসে নাম লেখানো—লন্ডনের রাতটি ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে থেকে যাবে দুই ভিন্ন অর্জনের উজ্জ্বলতায়।
এক নজরে ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর বিজয়ীরা
পুরস্কার বিজয়ী-
পুরুষদের ব্যালন ডি’অর হ্যারি কেইন
নারী ব্যালন ডি’অর অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস
পুরুষদের কোপা ট্রফি লামিনে ইয়ামাল
নারী কোপা ট্রফি ভিকি লোপেজ
পুরুষদের ইয়াশিন ট্রফি উনাই সিমন
নারী ইয়াশিন ট্রফি কাতা কোল
পুরুষদের বর্ষসেরা কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে
নারী বর্ষসেরা কোচ পেরে রোমেউ
পুরুষদের বর্ষসেরা ক্লাব পিএসজি
নারী বর্ষসেরা ক্লাব বার্সেলোনা
পুরুষদের গার্ড মুলার ট্রফি হ্যারি কেইন
নারী গার্ড মুলার ট্রফি চার্লিন কোরাল
সক্রেটিস পুরস্কার বুকায়ো সাকা
মতামত দিন