গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসি-এমবাপ্পের সঙ্গে শীর্ষে হালান্ড
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে নরওয়ে। আর সেই ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন আরলিং ব্রাট হালান্ড। জোড়া গোল করে শুধু দলকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালেই তোলেননি, ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও শীর্ষ সারিতে উঠে এসেছেন এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় নরওয়ে। দলের দুই গোলই করেন হালান্ড। ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলডেরুপের নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত হেডে গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের নিচু ও শক্তিশালী শটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের জয় নিশ্চিত করা গোলটি করেন। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও তা ব্রাজিলকে পরাজয় থেকে রক্ষা করতে পারেনি। ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় নরওয়ে।
ব্রাজিলের বিপক্ষে করা এই জোড়া গোলের সুবাদে চলতি বিশ্বকাপে হালান্ডের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭। এর ফলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি উঠে এসেছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সমান উচ্চতায়। তিনজনেরই গোল এখন সাতটি করে, ফলে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াই আরও জমে উঠেছে।
শুধু বিশ্বকাপেই নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলেও নিজের গোলের খাতা আরও সমৃদ্ধ করেছেন হালান্ড। ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর নরওয়ের জার্সিতে তার মোট আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬২। অল্প বয়সেই দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলদাতাদের তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন তিনি।
১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলা নরওয়ে এবারের আসরে একের পর এক চমক দেখিয়েই এগিয়ে চলেছে। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে শেষ ষোলোতে এসে টুর্নামেন্টের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী ব্রাজিলকে বিদায় করে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি উপহার দিয়েছে তারা।
এখন নরওয়ের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী ১১ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও মেক্সিকোর মধ্যকার শেষ ষোলোর ম্যাচের বিজয়ীর। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা হালান্ডের দিকে তাকিয়েই নিজেদের রূপকথার যাত্রা আরও দীর্ঘ করার স্বপ্ন দেখছে নরওয়ে।
মতামত দিন