Views Bangladesh Logo

দীর্ঘ খরা কাটিয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে প্রথমবার মুখোমুখি হচ্ছে হাইতি-স্কটল্যান্ড

Sports Desk

ক্রীড়া ডেস্ক

দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক বিশ্বকাপ খরা কাটিয়ে অবশেষে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে হাইতি ও স্কটল্যান্ড। গ্রুপ ‘সি’-এর এই ঐতিহাসিক ম্যাচটি ঘিরে দুই দেশের ফুটবল ভক্তদের মাঝেই টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

হাইতির জন্য এটি তাদের ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ। এর আগে ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে শেষবার অংশ নিয়েছিল তারা; তবে সেবার একটি পয়েন্টও না পেয়েই বিদায় নিতে হয়েছিল দলটিকে। দীর্ঘ বিরতি পর ফেরা ‘লেস গ্রেনাডিয়ার্স’ (হাইতি দল) এবার ইতিহাস নতুন করে লিখতে মরিয়া। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেওয়াই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।

র‍্যাঙ্কিংয়ের তলানির দিকে থাকলেও সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে হাইতি। তাদের এই নির্ভীক ও গতিময় ফুটবল যেকোনো প্রতিষ্ঠিত পরাশক্তিকে রক্ষণভাগকে ভেঙে দিতে পারে বলে বিশ্বাস করেন দলটির কোচ ও খেলোয়াড়েরা।

অন্যদিকে, দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপে ফিরেছে স্কটল্যান্ড। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের পর আর এই মঞ্চে দেখা যায়নি তাদের। তবে কোচ স্টিভ ক্লার্কের অধীনে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক 'টার্টান আর্মি'র (স্কটল্যান্ড দল) দেখা মিলছে। দলে চমৎকার ভারসাম্য আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে এবার গ্রুপ পর্বের গেরো কাটাতে বদ্ধপরিকর স্কটিশদের এই সোনালী প্রজন্ম।

গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিল ও মরক্কোর মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাকায় নক-আউট পর্বের আশা বাঁচিয়ে রাখতে দুই দলের জন্যই এই ম্যাচটি একপ্রকার বাঁচা-মরার লড়াই। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এর আগে কখনো এই দুই দল মুখোমুখি না হওয়ায় ম্যাচটিতে যোগ হয়েছে এক নতুন রোমাঞ্চ ও অনিশ্চয়তা।

কৌশলগত অবস্থান
মাঠের লড়াইয়ে স্কটল্যান্ড বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তাদের শক্তিশালী মিডফিল্ড ও সেট-পিস প্রতিপক্ষের জন্য বড় ভয়ের কারণ হবে। বিপরীতে, হাইতি নিজেদের রক্ষণভাগ সুরক্ষিত রেখে দ্রুতগতির কাউন্টার-অ্যাটাকের (পাল্টা আক্রমণ) ওপর ভরসা করবে। স্কটিশ ডিফেন্সের পেছনের ফাঁকা জায়গাগুলো কাজে লাগাতে নিজেদের গতি ও সরাসরি পাসিং ফুটবল ব্যবহার করতে পারে তারা। ফলে ম্যাচটিতে এক ক্লাসিক লড়াই দেখা যাবে—একদিকে স্কটল্যান্ডের সুশৃঙ্খল ফুটবল, অন্যদিকে হাইতির চমৎকার স্বতঃস্ফূর্ততা ও আন্ডারডগ হিসেবে জ্বলে ওঠার ক্ষুধা।

স্পটলাইট যাদের ওপর
হাইতির আক্রমণভাগের মূল ভরসা সান্দারল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার উইলসন ইসিদোর। তার অসাধারণ গতি আর বক্সে নিখুঁত ফিনিশিং যেকোনো রক্ষণভাগের জন্য বড় হুমকি। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগে বলের জোগান দেওয়া এবং প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে লিংক-আপ করার দায়িত্বে থাকবেন ক্রিয়েটিভ মিডফিল্ডার জঁ-রিকনার বেলগার্দ। সেই সঙ্গে স্কটিশ ডিফেন্ডারদের চাপে রাখতে প্রস্তুত দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ডুকেন্স নাজঁ, যার পজিশনিং ও গোল করার সহজাত ক্ষমতা হাইতিকে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে সাহায্য করবে।

অন্যদিকে স্কটল্যান্ডের মাঝমাঠের আসল ইঞ্জিন এবং দলের হৃদস্পন্দন হলেন জন ম্যাকগিন। হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলা এবং মাঝমাঠ থেকে আক্রমণের গতিপথ ঠিক করায় তিনি অনন্য। তার সঙ্গে মাঠ কাঁপাতে প্রস্তুত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ও বর্তমানের অন্যতম সেরা বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার স্কট ম্যাকটমিনে। সেট-পিস এবং ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি বক্সে আচমকা চড়াও হয়ে গোল করায় তিনি ওস্তাদ। আর আক্রমণভাগে ফর্মে থাকা তুখোড় স্ট্রাইকার লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ডের ওপর থাকবে গোল করার মূল দায়িত্ব, যিনি যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের চিত্রনাট্য বদলে দিতে পারেন।

কেমন হতে পারে ম্যাচের ফল?
নিজেদের প্রথম ম্যাচ হওয়ায় দু'দলের মধ্যেই স্নায়ুচাপ ও শারীরিক ফুটবলের তীব্রতা দেখা যাবে। অভিজ্ঞতার বিচারে স্কটল্যান্ড কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, হাইতির অপ্রতিরোধ্য গতি ও যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, একটি রোমাঞ্চকর ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখতে যাচ্ছে বিশ্ব। কারণ দুই দলই জানে, বিশ্বকাপে টিকে থাকার পথ নির্ধারণ করে দেবে এই প্রথম ম্যাচের ফলাফলই।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ