Views Bangladesh Logo

গ্রুপ-‘সি’

লড়াকু মানসিকতায় চমক দেখাতে চাইবে হাইতি

ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের উদীয়মান দল হাইতি এবার বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের লক্ষ্যে মাঠে নামছে। ঐতিহ্যগতভাবে বড় শক্তি না হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাইতি তাদের গতি, শক্তি এবং আক্রমণাত্মক মনোভাবের জন্য পরিচিতি পেয়েছে। তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া এই দলটি আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলে এবং প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে সাহসী কৌশল গ্রহণ করে।

হাইতি সাধারণত ৪-৪-২ বা ৪-২-৩-১ ফরমেশনে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। মাঝমাঠ থেকে দ্রুত বল এগিয়ে নিয়ে গিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলাই তাদের প্রধান কৌশল। উইং দিয়ে গতি ব্যবহার এবং সরাসরি আক্রমণে যাওয়ার প্রবণতা তাদের খেলাকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

বিশ্বকাপে অতীত রেকর্ড ও অংশগ্রহণ
ক্যারিবিয়ান দল হাইতি জাতীয় ফুটবল দল এখনো পর্যন্ত মাত্র একবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে, সেটি ছিল ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানি-তে অনুষ্ঠিত আসরে। ওই টুর্নামেন্টে তারা ইতালি, আর্জেন্টিনা ও পোল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেললে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। তবে ইতালির বিপক্ষে গোল করে তারা আলোচনায় আসে। এরপর দীর্ঘ সময় তারা বিশ্বকাপের মূল পর্বে উঠতে পারেনি, যদিও এবারের বাছাইপর্বে তাদের পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে।

শক্তিমত্তা
হাইতির সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের গতি এবং শারীরিক সক্ষমতা। দ্রুতগতির ফরোয়ার্ড ও উইঙ্গাররা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। দলটি আক্রমণে সরাসরি খেলে এবং সুযোগ পেলেই শট নিতে পিছপা হয় না। তাদের লড়াকু মানসিকতা এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাওয়ার প্রবণতা অনেক সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

দুর্বলতা
তবে অভিজ্ঞতার ঘাটতি হাইতির বড় দুর্বলতা। বড় দলের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা কম থাকায় চাপের মুখে তারা ভুল করতে পারে। রক্ষণভাগে সংগঠনের অভাব মাঝে মাঝে সমস্যা তৈরি করে এবং সেট-পিস পরিস্থিতিতে দুর্বলতা দেখা যায়। এছাড়া ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রেও তারা পিছিয়ে থাকে।

গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
বর্তমান হাইতি দলে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় রয়েছেন যারা দলের পারফরম্যান্সে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। আক্রমণভাগে ডাকেন্স নজোঁ তার গতি ও ফিনিশিং দক্ষতার জন্য পরিচিত। মিডফিল্ডে ব্রায়ান আলসেউস সৃজনশীলতা ও পাসিংয়ের মাধ্যমে খেলাকে এগিয়ে নেন। ডিফেন্সে রিকার্ডো আদে দলের রক্ষণকে সংগঠিত রাখেন। গোলপোস্টে জনি প্লাসিদ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দলকে ভরসা জোগান।

গ্রুপ প্রতিপক্ষ
সি গ্রুপে হাইতির প্রতিপক্ষ ব্রাজিল, মরক্কো এবং স্কটল্যান্ড। ব্রাজিল ও মরক্কোর মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের জন্য লড়াই বাস্তবিক অর্থেই কঠিন হবে। স্কটল্যান্ডের টেকনিক্যাল ও শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে না। হারানোর কিছু নেই চিন্তা করে ভয়ডরহীন ফুটবল খেললে এবার বিশ্বকাপে চমক দেখাতেই যাবে ক্যারেবিয়ান দেশ হাইতি।

এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনা
হাইতির মূল লক্ষ্য হবে প্রতিটি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করা। যদি তারা নিজেদের গতি ও আক্রমণাত্মক মনোভাব কাজে লাগাতে পারে, তবে বড় দলগুলোর বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত ফল এনে দিতেও পারে। সীমিত অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও আত্মবিশ্বাস ও লড়াকু মানসিকতা নিয়ে হাইতি এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের নতুনভাবে প্রমাণের চেষ্টা করবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ