Views Bangladesh Logo

ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন অগ্রগতি, কেমোথেরাপির বিকল্প হতে পারে ‘স্মার্ট’ ওষুধ

ক্যানসারের চিকিৎসায় যুগান্তকারী অগ্রগতির দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক বা ‘প্রিসিশন’ ওষুধ ক্যানসার কোষকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে সক্ষম হতে পারে, যা ভবিষ্যতে প্রচলিত কেমোথেরাপির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজি (এএসসিও) আয়োজিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্যানসার গবেষণা সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। শিকাগোয় অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রায় ৪০ হাজার বিশেষজ্ঞ অংশ নেন এবং ২ হাজার ৭০০-এর বেশি গবেষণা উপস্থাপিত হয়।

সম্মেলনের সবচেয়ে আলোচিত গবেষণাগুলোর একটি ছিল পরীক্ষামূলক ওষুধ জিআরডব্লিউডি৫৭৬৯ নিয়ে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ওষুধ ক্যানসার কোষের সেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দেয়, যার মাধ্যমে তারা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেয়। ইমিউনোথেরাপির সঙ্গে ব্যবহার করলে ছয় ধরনের ক্যানসারে টিউমারের আকার অন্তত ৩০ শতাংশ কমে যায়।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়ায় পরিচালিত পরীক্ষায় ৮৩ জন রোগীর মধ্যে ২৬ জনের টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনের ক্ষেত্রে টিউমার ৩০ শতাংশেরও বেশি সংকুচিত হয়েছে।

অন্যদিকে, অগ্ন্যাশয়ের (প্যানক্রিয়াটিক) ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন আশা দেখাচ্ছে ডারাক্সোনরাসিব নামের একটি ওষুধ। প্রতিদিন সেবনযোগ্য এই ট্যাবলেট রোগীদের গড় বেঁচে থাকার সময় প্রায় দ্বিগুণ করেছে।

৫০০ রোগীর ওপর পরিচালিত এক পরীক্ষায় দেখা যায়, নতুন ওষুধ গ্রহণকারীরা গড়ে ১৩ দশমিক ২ মাস বেঁচে ছিলেন, যেখানে প্রচলিত কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের গড় আয়ু ছিল ৬ দশমিক ৬ থেকে ৬ দশমিক ৭ মাস। বিশেষজ্ঞরা এটিকে প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার চিকিৎসায় ‘গেম-চেঞ্জিং’ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের নেতৃত্বে পরিচালিত অপ্টিমা গবেষণায় ৪ হাজার স্তন ক্যানসার রোগীকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। জিনগত পরীক্ষার মাধ্যমে কম ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের শনাক্ত করে শুধুমাত্র হরমোন থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ফলে অনেক রোগীকেই কেমোথেরাপি নিতে হয়নি।

মূত্রথলির (ব্লাডার) ক্যানসার চিকিৎসাতেও নতুন সাফল্যের খবর পাওয়া গেছে। ইমিউনোথেরাপি, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির সমন্বিত চিকিৎসায় অনেক রোগীকে অস্ত্রোপচার ছাড়াই সুস্থ রাখা সম্ভব হয়েছে।

তবে আশাব্যঞ্জক এই অগ্রগতির পাশাপাশি সতর্কবার্তাও দিয়েছেন গবেষকরা। এক গবেষণায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা ১৬৫ হলেও ২০৫০ সালে তা বেড়ে ২০০-তে পৌঁছাবে। বর্তমানে বিশ্বে বছরে প্রায় ২ কোটি মানুষের ক্যানসার শনাক্ত হলেও আগামী ২৫ বছরে এই সংখ্যা ৩ কোটি ৫০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রা স্তন, ডিম্বাশয়, অন্ত্র ও জরায়ুর ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। কিছু ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তিন গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

অন্যদিকে, ক্যানসার রোগীদের উদ্বেগ, ক্লান্তি ও ঘুমের সমস্যার ক্ষেত্রে যোগব্যায়াম ইতিবাচক ফল দেখিয়েছে। গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে ওষুধভিত্তিক চিকিৎসার পাশাপাশি সামগ্রিক ও জীবনধারাভিত্তিক পরিচর্যার গুরুত্বও আরও বাড়বে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ