লোডশেডিংয়ে মানুষের কষ্টে সংসদে সরকারের দুঃখ প্রকাশ
চলমান তীব্র গরমে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের যে কষ্ট হচ্ছে, তার জন্য জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
একই সঙ্গে তিনি জানান, গ্রামের কৃষকদের সেচকাজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে রাজধানীতে পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'এই পুঞ্জীভূত সমস্যার দায় কোনোভাবেই বর্তমান নির্বাচিত সরকারের নয়। বিগত সরকারের অব্যবস্থাপনার দায় আমাদের সবাইকে বহন করতে হচ্ছে। বর্তমানে কাগজে-কলমে উৎপাদনক্ষমতা অনেক বেশি থাকলেও বাস্তবতার সঙ্গে তার গরমিল রয়েছে।'
তিনি জানান, গতকাল বুধবার দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট, বিপরীতে উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াট। ফলে দুই হাজার ৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।
গ্রাম ও শহরের বৈষম্য দূর করার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'শহরের মানুষ আরামে থাকবে আর গ্রামের খেটে খাওয়া কৃষক কষ্টে থাকবে—এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। ফসল ওঠার মৌসুমে কৃষকরা যাতে সেচের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পান, তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ঢাকায় প্রাথমিকভাবে ১১০ মেগাওয়াট পরীক্ষামূলক লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'
গ্যাস সংকটের চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে প্রতিদিন তিন হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। দেশের সব কূপ মিলে উৎপাদন হয় দুই হাজার ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা হয় ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন এক হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থাকছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে হঠাৎ আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়। তবে সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার তালিকার মধ্যেই গ্যাস অবকাঠামো উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে লোডশেডিং কমে আসবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'রক্ষণাবেক্ষণের কারণে একটি আমদানিকৃত ও একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে পর্যাপ্ত সরবরাহ করতে পারছে না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তারা পূর্ণ উৎপাদনে ফিরবে। ফলে বর্তমানের দুই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং সাত দিনের মধ্যেই কমে আসবে।'
দেশবাসীর উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমি এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে মানুষের কষ্টের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিনয়ের সঙ্গে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। জনগণের কষ্ট লাঘব করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা রয়েছে।'

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে