৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন দিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। সভায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবেরা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সভা শেষে জানান, অনুমোদিত এডিপির মোট আকার ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি এবং প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে আসবে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। নতুন এডিপিতে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সংস্কার, বৈষম্যহীন উন্নয়ন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
নতুন এডিপিতে ১ হাজার ২৭৭টি নতুন প্রকল্পের সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় ৮০টি এবং বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ১৪৮টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। খাতভিত্তিক বরাদ্দে স্থানীয় সরকার, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে। দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতে রাখা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ।
বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ‘ফাইভ ইয়ার স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’-এরও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি এই কৌশলগত কাঠামোর আলোকে এডিপিকে পাঁচটি স্তম্ভে বিন্যস্ত করা হয়েছে— রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়ন, ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার, অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন এবং ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সংহতি।
প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ করা সম্ভব এমন প্রকল্পগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পে নতুন ব্যয় সীমিত রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বৈঠকে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে