ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আনার চেষ্টা হচ্ছে: রিজভী
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আনার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার দাবি, বর্তমান সংকট সরকারের তৈরি নয়; বরং বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবেই দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিকল্প উৎসের দিকে নজর দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আনার চেষ্টা চলছে। চলমান সংকটের মধ্যেও দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আগের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রসঙ্গও তোলেন বিএনপির এই নেতা। তার দাবি, কেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে থাকায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে এক ধরনের নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে।
রিজভী বলেন, যেদিন প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, তার পরদিনই প্রচার করা হলো আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিট নষ্ট হয়ে গেছে। এই পাওয়ার প্ল্যান্টের ১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসে। অথচ এর সুইচ রয়েছে ভারতের ঝাড়খণ্ডে। তারা যে কোনো সময় তা বন্ধ ও চালু করতে পারে।
এ ঘটনাকে ঘিরে কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন রিজভী। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতির পেছনের বিষয় বুঝতে কোনো বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই।
সমাবেশে দেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও বক্তব্য দেন বিএনপির এই নেতা। ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যথাযথ মর্যাদা না দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ‘সাইডলাইনে’ না গিয়ে তারেক রহমান দেশের মর্যাদা রক্ষা করেছেন।
রিজভী আরও দাবি করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট, ব্যাংক লোপাট, গুম ও হত্যার মতো ঘটনার পর ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তার অভিযোগ, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী পক্ষ ও পার্শ্ববর্তী একটি বিশেষ গোষ্ঠী নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে।
শেখ হাসিনাসহ ১৪০০ ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের ভারতে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও করেন রিজভী। তার দাবি, এসব ব্যক্তিকে দেশে ফেরত না দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও আশপাশের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, একটি পক্ষ ১৯৭১ সালের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চাইছে। দেশের মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।
সমাবেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আলমগীর কবির, সাধারণ সম্পাদক কে এম আই মন্টি, আব্দুল হাকিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ারসহ সংগঠনটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত দিন