আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তৃতীয় দিন বাড়ল স্বর্ণের দাম
যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশায় পরিবর্তন আসায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম টানা তৃতীয় দিনের মতো বেড়েছে। আগামী মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে আসায় স্বর্ণে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়ছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকেও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪২৪ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৮০ দশমিক ৯০ ডলারে লেনদেন হয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে আগামী মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। সাধারণত সুদের হার কম থাকলে বা অপরিবর্তিত থাকলে সুদবিহীন সম্পদ স্বর্ণের আকর্ষণ বাড়ে। ফলে ফেডের মুদ্রানীতি নিয়ে প্রত্যাশার পরিবর্তন মূল্যবান এই ধাতুটির বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মার্কিন ডলারের দুর্বল অবস্থান। প্রধান কয়েকটি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মূল্য কয়েক মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। ডলারের দর কমলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী বিনিয়োগকারীদের কাছে ডলারে নির্ধারিত স্বর্ণের দাম তুলনামূলক কম পড়ে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়।
এখন বাজারের মূল নজর ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে। নীতিনির্ধারকদের আলোচনায় সুদের হার নিয়ে কী ধরনের অবস্থান উঠে এসেছে, তা থেকে ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। সেই তথ্যের ওপর নির্ভর করে স্বর্ণের বাজারে পরবর্তী দিকনির্দেশনা তৈরি হতে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও এদিন ঊর্ধ্বমুখী ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৬১ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে প্লাটিনামের দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৫৯ দশমিক ৭২ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৩৩ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
মতামত দিন