বিশ্ব বাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭৮ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৪৭ ডলারে নেমেছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমেছে ১ দশমিক ২১ ডলার বা ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ৮৯ দশমিক ৩১ ডলারে।
দাম কমার অন্যতম কারণ সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন পুনরায় চালু হওয়া। ১১ সেপ্টেম্বর ড্রোন হামলার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া পাইপলাইনটি মঙ্গলবার সীমিত সক্ষমতায় চালু করা হয়। এর মাধ্যমে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পাঠানো সম্ভব। পাইপলাইনটির পূর্ণ সক্ষমতা দৈনিক ৭০ লাখ ব্যারেল হলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ছয় থেকে আট সপ্তাহ লাগতে পারে।
এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতার সম্ভাবনাও বাজারে স্বস্তি এনেছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ ও অবরোধ কমালে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তবে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি।
এর আগে মঙ্গলবার ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে লেনদেন শেষ হয়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হওয়ায় তেলের বাজারে নিম্নমুখী চাপ অব্যাহত রয়েছে। তবে সংঘাত ও সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা থাকায় বাজারের পরিস্থিতি এখনো অস্থির।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ভর্টেক্সা ও কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ইরাকের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ছিল যথাক্রমে দৈনিক ২৩ লাখ ও ২১ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল। জুলাইয়ের তুলনায় রপ্তানি বাড়লেও যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারির তুলনায় তা এখনো কম।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও অপরিশোধিত তেলের মজুত বেড়েছে। শিল্প খাতের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ১৮ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। তবে রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা মজুত কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
মতামত দিন