Views Bangladesh Logo

জাতিসংঘ মহাসচিবের সফরে রোহিঙ্গা সংকটে মনোযোগ ফিরবে বিশ্বের: সরকার

ন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তেনিয় গুয়েতেরেসের বাংলাদেশ সফর রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধান খোঁজার বৈশ্বিক প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করতে সাহায্য করবে। যা এই সংকটের দিকে আবারও বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করবে।

‘এটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সফর। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এই সফর সংকটকে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আনতে সাহায্য করবে। আমরা আশা করি, জাতিসংঘের মহাসচিব এ লক্ষ্যে ভালো বার্তা দেবেন’- বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বুধবার (১২ মার্চ) জাতিসংঘ মহাসচিবের দ্বিতীয় বাংলাদেশ সফরের আগে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) ঢাকায় আসছেন তিনি।

চারদিনের সফরকালে দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (১৪ মার্চ) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেস। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করবেন তারা।

বৈঠক শেষে আন্তেনিও গুয়েতেরেসের ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।

সেদিন রাষ্ট্রপতি ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গেও বৈঠক করবেন। আর তৃতীয় দিন শনিবার (১৫ মার্চ) কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার কার্যক্রম ও জাতিসংঘের নানা উন্নয়ন প্রকল্পও পরিদর্শন করবেন তিনি। বাংলাদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও রয়েছে তার সফরসূচিতে।

২০১৮ সালে বাংলাদেশ সফরের পর আন্তেনিয় গুয়েতেরেসের এটি দ্বিতীয় সফর। এবার তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি, মানবাধিকার পরিস্থিতি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, জাতিসংঘের মহাসচিবের এ সফরকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গণেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

জাতিসংঘ বরাবরই বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা এবং তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করে আসছে। গুয়েতেরেস কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে তাদের বর্তমান অবস্থা, তাদের জন্য মানবিক সহায়তা এবং মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে জাতিসংঘের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সংবাদ সম্মেলনে জানান, জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেস রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রধান উপদেষ্টার দেয়া ইফতার পার্টিতেও অংশ নেবেন। ইফতার অনুষ্ঠানে এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা অংশ নেবেন বলেও জানান তিনি।

প্রেস সচিব বলেন, প্রতিমাসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের খাদ্য সহায়তায় খরচ হয় ১৫ মিলিয়ন ডলার। তাদের জন্য এ খাদ্য সহায়তা কমে গেছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের সফরে রোহিঙ্গা সমস্যা বিশ্বনেতাদের নজরে আসবে বলেও তিনি আশাবাদী।

জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে অবস্থানকালে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাবেন মহাসচিব।

তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। জাতিসংঘের মহাসচিব এর আগে একাধিকবার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। এবারের সফরেও তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা এবং প্রকল্প পরিদর্শন করবেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশকে আরও সমর্থনের আহ্বানও জানাতে পারেন তিনি।

সরকারি সূত্র জানায়, সফরের অংশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে সরাসরি জানতে উপকূলীয় কিছু এলাকা পরিদর্শন করতে পারেন গুতেরেস।

বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম প্রধান অবদানকারী দেশ। মহাসচিব তার সফরে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদানের প্রশংসা এবং ভবিষ্যতে শান্তিরক্ষী পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন।

শফিকুল আলম বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের এই সফর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

‘অন্য বৈশ্বিক সংকট থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গা সংকট যেন ফের বিশ্ব মানচিত্রে আসে তা নিশ্চিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকেই কাজ করে যাচ্ছে। সরকার নিশ্চিত করতে চায়, বৈশ্বিক মনোযোগ সেখানেই থাকুক, প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরছেন’- বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রেসসচিব বলেন, সরকার রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধান চায়, যেন তারা নিরাপদে এবং মর্যাদার সাথে তাদের জন্মস্থান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফিরে যেতে পারেন। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সম্প্রতি জানিয়েছে, জরুরি নতুন তহবিল ছাড়া, মাসিক রেশন অর্ধেক করে জনপ্রতি ৬ মার্কিন ডলারে নামিয়ে আনতে হবে, যা জনপ্রতি ১২.৫০ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে আনা উচিত। ঠিক যেমন শরণার্থীরা রমজানের শেষে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বাংলাদেশে জরুরি সহায়তা কার্যক্রমে তহবিলের এই তীব্র ঘাটতির বিষয়ে সতর্ক করেছে সংস্থাটি, যার ফলে বাংলাদেশে দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর খাদ্য সহায়তা বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

শফিকুল আলম অবশ্য বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সাহায্য তীব্রভাবে হ্রাস পেলেও আশা করা হচ্ছে, জাতিসংঘ মহাসচিবের এই সফর সমস্যা সমাধানের কিছু উপায় খুঁজে পেতে সহায়তা করবে। রোহিঙ্গাদের জন্য সাহায্য সংগ্রহের প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করা হবে।

‘আমরা তহবিল প্রবাহে কোনো ব্যাঘাত দেখতে চাই না। আমরা তাদের পুষ্টির চাহিদার সাথে আপস করতে চাই না’- বলেন প্রেসসচিব।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ