ক্ষমা চেয়েও আস্থা ফেরাতে পারলেন না ইনফান্তিনো
বিতর্কের মুখে ক্ষমা চেয়েও রেহাই মিলল না ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর। বাতিল হওয়া ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) প্রকল্প নিয়ে ফিফা কাউন্সিলের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন তিনি। তবে তাঁর সেই ক্ষমাপ্রার্থনায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি ইউরোপের দুই প্রভাবশালী ফুটবল দেশ ইংল্যান্ড ও জার্মানির প্রতিনিধিরা। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, বর্তমান নেতৃত্বে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সংস্কার সম্ভব নয়।
সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফা কাউন্সিলের রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় ইনফান্তিনো স্বীকার করেন, এফএফই প্রকল্প নিয়ে যোগাযোগ ও পরামর্শের প্রক্রিয়ায় ভুল ছিল। তবে তাঁর দাবি, এটি ছিল কেবল একটি প্রস্তাব; এ নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা এফএফই পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল ফিফার প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি পৃথক প্রতিষ্ঠান গঠন। বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্ব ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে সংখ্যালঘু শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনাও ছিল এতে। ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের জন্য অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছিল বলে জানান ইনফান্তিনো।
কিন্তু প্রকল্পটি নিয়ে ফিফার শীর্ষ পর্যায়ে যথাযথ আলোচনা না হওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে কাউন্সিলের একাংশের মধ্যে। জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফবি) সভাপতি বের্ন্ড নয়েনডর্ফের মতে, ইনফান্তিনোর ক্ষমাপ্রার্থনা যথেষ্ট নয়। তাঁর অভিযোগ, সভাপতি মূলত কাউন্সিল সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা না করার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন; প্রকল্পটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে নয়।
ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন নয়েনডর্ফ। তাঁর ভাষায়, ফিফায় বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু ইনফান্তিনোকে দায়িত্বে রেখে সেই সংস্কার সম্ভব নয়। সংস্থাটির জন্য প্রয়োজন ‘কমপ্লিট রিস্টার্ট’ বা নতুন করে যাত্রা শুরুর মতো পরিবর্তন। গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্পের কথা কাউন্সিল সদস্যদের সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে প্রথম জানতে হওয়াকে তিনি উদ্বেগজনক বলেও উল্লেখ করেন।
ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) চেয়ারপার্সন ডেবি হিউইটও ইনফান্তিনোর কাছে স্পষ্ট জবাবদিহি দাবি করেছেন। তাঁর মতে, কাউন্সিল সদস্যদের প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে হবে সভাপতিকে; অন্যথায় তাঁর পদে থাকার যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।
হিউইট এফএফই প্রকল্পের সব নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ফোল্যারিন বালোগানের লাল কার্ডের শাস্তি স্থগিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও স্বচ্ছতা চেয়েছেন তিনি।
তবে ইউরোপের এই সমালোচনার বিপরীতে আফ্রিকার ফুটবল নেতৃত্বের একটি অংশ এখনো ইনফান্তিনোর পাশে রয়েছে। মৌরিতানিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি আহমেদ ইয়াহিয়ার মতে, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়ন হয়েছে, জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর তহবিল বেড়েছে এবং বিশ্বকাপের দলসংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এফএফই প্রকল্প ঘিরে বিতর্ক এখন কেবল একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ফিফার নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়েও বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে। ইনফান্তিনোর ক্ষমাপ্রার্থনা সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
মতামত দিন