কিশোরীকে অশোভন স্পর্শের অভিযোগ, জার্মানিতে লাইভস্ট্রিমে ব্যবহৃত রোবট জব্দ
জার্মানির কোলোন শহরে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে একটি মানবাকৃতির রোবট জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রোবটটির ১৬ বছর বয়সী মালিক ও তাঁর ১৯ বছর বয়সী এক সহযোগীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
পুলিশের ধারণা, ওই দুই তরুণ রোবটটির মাধ্যমে ঘটনাটি ঘটিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করে থাকতে পারেন। খবর বিবিসি ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি)।
পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর শনিবার দিবাগত রাতে শহরের কেন্দ্রের কাছে একটি ফাস্টফুডের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরীর পেছন দিক থেকে প্রায় ১২০ সেন্টিমিটার উচ্চতার রোবটটি এগিয়ে যায়। একপর্যায়ে সেটি কিশোরীর নিতম্ব স্পর্শ করে এবং শরীরের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়ার মতো অশোভন ভঙ্গিতে নড়াচড়া করে। এতে আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করে সরে যান ওই কিশোরী।
ঘটনার পর জরুরি সেবায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকায় অভিযান চালায়। এক ব্লক দূরে রোবটটির মালিক ও তাঁর ১৯ বছর বয়সী সহযোগীর সন্ধান পান কর্মকর্তারা। পরে একটি গাড়ির পেছনের মালপত্র রাখার জায়গা থেকে রোবটটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রকাশিত ছবিতে রোবটটিকে লাল ও সোনালি রঙের পোশাক, সাদা ভেস্ট, সোনালি চেইন ও কৃত্রিম কালো গোঁফ পরা অবস্থায় দেখা যায়।
পুলিশের সন্দেহ, ঘটনার সময় ওই দুই তরুণ রোবটটির কর্মকাণ্ড ধারণ করছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন। সম্প্রচারের সময় তাঁরা ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্যও করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে রোবটটির নড়াচড়া সরাসরি দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল, নাকি আগে থেকেই নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে রাখা হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ রোবটটি এবং সন্দেহভাজন দুজনের ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন জব্দ করেছে। ঘটনাটির ভিডিও, রোবটটির পরিচালনাপদ্ধতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
এ ঘটনায় রোবট ব্যবহার করে মানুষের প্রতি অশোভন আচরণ এবং এ ধরনের ঘটনার দায় নির্ধারণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। জার্মানিতে যৌন হয়রানিসংক্রান্ত আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রেও রোবটের মাধ্যমে সংঘটিত এমন ঘটনার আইনি ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তদন্তকারীরা ঘটনার প্রকৃতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করছেন।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু মন্তব্যের বিষয়ে সতর্ক করেছে কোলোন পুলিশ। কর্তৃপক্ষ বলেছে, ভুক্তভোগীকে নিয়ে বিদ্রূপ করা বা ঘটনাটিকে তুচ্ছ করে দেখানোর মতো মন্তব্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
মতামত দিন