Views Bangladesh Logo

উত্তর গাজায় বাড়ি ফিরছেন ফিলিস্তিনিরা

দীর্ঘদিন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার পর নিজ বাড়িতে ফিরছেন হাজারো ফিলিস্তিনি। এ জন্য সোমবার (২৭ জানুয়ারি) হাজার হাজার ফিলিস্তিনি গাজা উপত্যকার প্রধান সড়কগুলো দিয়ে উত্তর গাজার দিকে যাত্রা করেন। তবে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আনন্দ তাদের মধ্যে থাকলেও বোমা হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকায় বাড়িঘর কী আছে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা।

রয়টার্স জানিয়েছে, তাদের এই প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়েছে হামাসের পক্ষ থেকে এই সপ্তাহে তিনজন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পরে। সেই সঙ্গে ১৫ মাস ধরে চলা যুদ্ধের যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে গাজার একটি প্রধান করিডোর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরে আসতে শুরু করলে।

অপরদিকে ইসরায়েলে, প্রিয়জনের ফিরে আসার খবরের অপেক্ষায় উদ্বিগ্ন জিম্মিদের পরিবারগুলো।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা গেছে, সোমবার গাজার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল বরাবর একটি রাস্তা দিয়ে হেঁটে উত্তরের দিকে যাচ্ছিলেন অসংখ্য মানুষ। তাদের অনেককেই কোলে শিশু বা কাঁধে মালামাল বহন করতে দেখা গেছে।

এ সময় একজন ফিলিস্তিনি মা উম্ম মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এটি যেন ফের নতুন করে জন্ম নেয়ার মতো এবং আমরা আবার বিজয় অর্জন করেছি।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মধ্য গাজার প্রথম ক্রসিং পয়েন্টটি সকাল ৭টায় (স্থানীয় সময় ০৫:০০ জিএমটি) খোলা হয়। এর আগে ভোরে গাজা শহরে পৌঁছান প্রথম দিকের বাসিন্দারা। প্রথম ক্রসিং পয়েন্ট খোলার তিন ঘণ্টা পর আরও একটি ক্রসিং খুলে দেয়া হলেন গাড়িগুলো প্রবেশ করতে শুরু করে।

৫০ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা ও পাঁচ সন্তানের বাবা ওসামা বলেছেন, ‘আমার হৃদস্পন্দন বেড়ে গেছে। আমি কখনো ভাবিনি যে আমি ফিরে আসতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি সফল হোক বা না হোক, আমরা আর কখনো গাজা সিটি ও উত্তর অঞ্চল ছেড়ে যাব না। এমনকি যদি আমাদের জন্য একটি করে ট্যাংক পাঠানো হলেও আর বাস্তুচ্যুতি নয়।‘

পাঁচ সন্তানের মা ঘাধা রয়টার্সকে বলেন, ‘ঘুম নেই। ভোরের প্রথম আলোতেই আমরা রওনা হবো বলে সবকিছু গুছিয়ে রেখেছিলাম। অবশেষে আমরা বাড়ি ফিরছি। এখন বলতে পারি যুদ্ধ শেষ হয়েছে এবং আশা করি সব শান্ত থাকবে।’

প্রসঙ্গত, গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী হামাস যোদ্ধাদের আকস্মিক হামলার পর গাজায় যুদ্ধ শুর করে ইসরাইল। দীর্ঘ দেড় বছরের যুদ্ধে ইসরাইলি হামলায় ৪৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। যাদের বেশির ভাগই ছিল নারী ও শিশু। অবশেষে গত ১৯ জানুয়ারি (রোববার) ইসরাইল-হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়। জাতিসংঘের হিসেবে গাজা যুদ্ধে প্রায় ১৭ হাজার শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ