গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত আরও ৬০ ফিলিস্তিনি, প্রাণহানি ছাড়াল ৬৫,৫০০
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬০ জন নিহত এবং অন্তত ১৪২ জন আহত হয়েছেন। ফলে যুদ্ধ শুরুর দুই বছরের কাছাকাছি সময়ে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৫৪৯ জনে, আহত হয়েছেন অন্তত এক লাখ ৬৭ হাজার ৫১৮ জন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি। কারণ, ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মরদেহ চাপা পড়ে আছে। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জাম না থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া ইসরায়েলি-সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিতে অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে মারা গেছেন ৪৪০ জন, যাদের ১৪৭ জনই শিশু। এর মধ্যে জাতিসংঘ-সমর্থিত ক্ষুধা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা (আইপিসি) গত মাসে উত্তর গাজাকে দুর্ভিক্ষ অঞ্চল ঘোষণা করার পর থেকেই মারা গেছেন ৩২ জন শিশুসহ ১৬৪ জন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে কেবল গাজা সিটিতেই প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ জন। ইসরায়েল ও মার্কিন-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) মানবিক সহায়তা নিতে গিয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান পাঁচজন ত্রাণপ্রার্থী এবং আহত হন অন্তত ৩৩ জন। এ নিয়ে ২৭ মে বিতর্কিত জিএইচএফের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে নিহত সাহায্যপ্রার্থী দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫৪৩ জনে, আহত হয়েছেন আরও ১৮ হাজার ৬১৪ জন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় এক হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। গাজায় এখনো ৪৮ জন বন্দি রয়েছে। তাদের মধ্যে কমপক্ষে ২০ জন জীবিত বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারের কথা বলেই ইসরায়েল সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে গাজাজুড়ে।
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশের চাপে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও ১৮ মার্চ থেকে ফের সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। দ্বিতীয় দফার এই অভিযানে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ১২ হাজার ৯৩৯ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন ৫৫ হাজার ৩৩৫ জন।
গাজার চলমান পরিস্থিতিকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। একই সঙ্গে জাতিসংঘের আদালতেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা চলছে।
তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছেন, হামাসকে পুরোপুরি নির্মূল না করা পর্যন্ত গাজায় অভিযান বন্ধ হবে না।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে