গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ছাড়াল ৬৩ হাজার, দুর্ভিক্ষে ৩৩২ জন
গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় একদিনে নিহত হয়েছেন আরও ৬৬ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৩৪৫ জন। এতে অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিহতের সংখ্যা ৬৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া ইসরায়েলের জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়া অনাহার ও অপুষ্টিতে মারা গেছেন তিন শিশুসহ আরও দশজন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এ নিয়ে গত ২২ মাসে প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ৩৭১ জনে, আহত হয়েছেন অন্তত এক লাখ ৫৯ হাজার ৮৩৫ জন। অন্যদিকে জাতিসংঘ ঘোষিত পূর্ণমাত্রার দুর্ভিক্ষপীড়িত ছিটমহলটিতে অনাহারজনিত মৃত্যু ঘটেছে ৩৩২ জনের, যাদের ১২৪ জনই শিশু।
চিকিৎসা সূত্রের বরাতে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সারাদিনে নিহতদের ৫১ জন প্রাণ হারিয়েছেন ইসরায়েলি বাহিনীর নিক্ষিপ্ত গোলায়। বাকি ১৫ জন গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) ত্রাণকেন্দ্রে মানবিক সহায়তা সংগ্রহে গিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের এলাপাতাড়ি গুলিতে মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন ২০৬ জন। এ নিয়ে গত ২৭ মে ইসরায়েল ও মার্কিন-সমর্থিত জিএইচএফ প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিহত সাহায্যপ্রার্থী দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ২১৮ জনে, আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৪৩৪ জনেরও বেশি।
তুর্কি গণমাধ্যম আনাদোলুকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাজা সিটি দখলে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির লক্ষ্যে শুজাইয়া, জায়তুন ও সাবরা এলাকায় তীব্র বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থার তথ্য অনুসারে, কেবল জায়তুনের দক্ষিণাংশেই ধ্বংস হয়েছে ১৫০০টিরও বেশি বাড়িঘর। ওই এলাকায় আর কোনো ভবন দাঁড়িয়ে নেই। বহু পরিবার ঘর ছেড়ে উপকূলের দিকে ছুটে যাচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় এক হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। গাজায় এখনও প্রায় ৫০ জন বন্দী রয়েছে। তাদের মধ্যে কমপক্ষে ২০ জন জীবিত বলে মনে করা হচ্ছে। তাদেরকে উদ্ধারের কথা বলেই ইসরায়েল সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে গাজাজুড়ে।
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশের চাপে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও ১৮ মার্চ থেকে ফের সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। দ্বিতীয় দফার এই অভিযানে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ১১ হাজার ২৪০ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন ৪৭ হাজার ৭৯৪ জন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে