Views Bangladesh Logo

ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি-কে ছাড়িয়ে নতুন ট্রেন্ড ‘গ্যালিক অ্যাসিড’

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখা, রোদে ক্ষতি কমানো কিংবা বয়সের ছাপ ঠেকাতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত উপাদানের ব্যবহার এখন বেশ জনপ্রিয়। দীর্ঘদিন ধরে এ ক্ষেত্রে ভিটামিন সি অন্যতম পরিচিত উপাদান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ভিদজাত একটি যৌগ ‘গ্যালিক অ্যাসিড’ নিয়েও আগ্রহ বাড়ছে। গবেষণায় এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রদাহরোধী ও পিগমেন্টেশন কমানোর সম্ভাবনা সামনে এসেছে।

গ্যালিক অ্যাসিড মূলত একটি প্রাকৃতিক ফেনলিক যৌগ, যা বিভিন্ন ফল, বাদাম, চা ও উদ্ভিদে পাওয়া যায়। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মুক্ত মৌল বা ফ্রি র‌্যাডিক্যাল নিষ্ক্রিয় করার ক্ষমতা। ত্বকে অতিরিক্ত অক্সিডেটিভ চাপ কোষের ক্ষতি ও বয়সজনিত পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ কারণে গ্যালিক অ্যাসিডকে ত্বকের সুরক্ষায় সম্ভাবনাময় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে বিবেচনা করছেন গবেষকেরা।

ত্বকের কালচে দাগ বা অতিরিক্ত পিগমেন্টেশনের ক্ষেত্রেও গ্যালিক অ্যাসিড নিয়ে গবেষণা হয়েছে। পরীক্ষাগার ও প্রাণীর ওপর পরিচালিত গবেষণায় এটি মেলানিন তৈরির সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রক্রিয়া এবং টাইরোসিনেজের কার্যক্রম কমাতে পারে বলে দেখা গেছে। একটি গবেষণায় গ্যালিক অ্যাসিডযুক্ত প্রয়োগ ত্বকে অতিবেগুনি রশ্মির কারণে হওয়া পিগমেন্টেশন ও ফটোএজিংয়ের কিছু লক্ষণ কমানোর সম্ভাবনাও দেখিয়েছে। তবে এসব ফলাফলকে মানুষের ত্বকে নিশ্চিত চিকিৎসা-সাফল্য হিসেবে দেখার আগে আরও ক্লিনিক্যাল গবেষণা প্রয়োজন।

এখানেই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো, গ্যালিক অ্যাসিডকে এখনই ভিটামিন সি-র বিকল্প বা তার চেয়ে কার্যকর উপাদান হিসেবে ঘোষণা করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। ভিটামিন সি নিয়ে দীর্ঘদিনের গবেষণায় ত্বকের কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা, অতিবেগুনি রশ্মিজনিত ক্ষতি থেকে সুরক্ষা এবং হাইপারপিগমেন্টেশন কমানোর মতো বিভিন্ন উপকারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০২৩ সালের একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনাতেও ত্বকের অসম রং ও বলিরেখার ক্ষেত্রে টপিক্যাল ভিটামিন সি ব্যবহারে উপকারের প্রমাণ পাওয়া যায়।

গ্যালিক অ্যাসিডের ক্ষেত্রেও কিছু মানবভিত্তিক গবেষণা আশাব্যঞ্জক ফল দেখিয়েছে। একটি পর্যালোচনায় গ্যালিক অ্যাসিডযুক্ত একটি জেল ব্যবহারে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ও মসৃণতায় উন্নতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গবেষকেরা একই সঙ্গে এর কম দ্রবণীয়তা ও ত্বকে কার্যকরভাবে পৌঁছানোর সীমাবদ্ধতার কথাও বলেছেন। তাই গ্যালিক অ্যাসিডের কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করতে পারে এর ফর্মুলেশন ও ত্বকে পৌঁছানোর পদ্ধতির ওপর।

তাই ত্বকের যত্নে গ্যালিক অ্যাসিডকে নতুন সম্ভাবনাময় উপাদান বলা গেলেও, ভিটামিন সি ‘অতীত’ হয়ে গেছে এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সময় এখনো আসেনি। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকে কোনো নতুন অ্যাকটিভ ব্যবহারের আগে পণ্যটির উপাদান, ঘনত্ব ও ত্বকের ধরন বিবেচনা করা জরুরি। প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। গবেষণার অগ্রগতির সঙ্গে ভবিষ্যতে গ্যালিক অ্যাসিডের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হতে পারে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ