ভারতের মণিপুরে ফের সহিংসতা, উত্তেজনা চরমে
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে আবারও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) ইম্ফল পশ্চিম জেলার কান্তো সাবাল এলাকায় প্রায় ৬০০ জনের একটি বিক্ষুব্ধ জনতা মেইতেই সম্প্রদায়ের একটি গ্রামে অন্তত ছয়টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। এর কয়েক দিন আগেও একই এলাকায় অগ্নিসংযোগের চেষ্টা হয়েছিল।
নতুন করে সহিংসতার জেরে এবার নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যেও উত্তেজনা বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইতেই-কুকি সংঘাতের পাশাপাশি এটি রাজ্যের জাতিগত সংকটে নতুন ও আরও জটিল মাত্রা যোগ করেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উখরুল জেলায় এক নাগা শিক্ষক ও কয়েকজন কুকি যুবকের মধ্যে সামান্য বিরোধের জেরে নতুন করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। পরে তা অগ্নিসংযোগ, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়। মে মাসে ছয় নাগা ব্যক্তিকে অপহরণের পর জুনে তাদের মরদেহ উদ্ধার হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী, সশস্ত্র সংগঠন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘাত নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকার চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
২০২৩ সালে মেইতেই সম্প্রদায়ের তফসিলি উপজাতি (এসটি) মর্যাদার দাবিকে কেন্দ্র করে কুকি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংঘাত শুরু হয়। পরে নাগা সম্প্রদায়ও বিভিন্ন ঘটনায় জড়িয়ে পড়লে সংকট আরও বিস্তৃত হয়।
দীর্ঘদিনের এ জাতিগত সহিংসতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২৬০ জন নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি মানুষ।
মতামত দিন