ভূমধ্যসাগরে ফ্রান্সের নিউক্লিয়ার-চালিত বিমানবাহী জাহাজ মোতায়েন
ফ্রান্সের নিউক্লিয়ার-চালিত বিমানবাহী জাহাজকে বাল্টিক সাগর থেকে ভূমধ্যসাগরে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধকালীন সময়ে মিত্র দেশগুলোর সম্পদ রক্ষা করার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
মঙ্গলবার ম্যাক্রোঁ জানান, চার্লস দ্য গল জাহাজটি ফ্রিগেট জাহাজ এবং এর বিমানদলসহ পাঠানো হবে।
ফরাসি টেলিভিশনে পূর্বরেকর্ডকৃত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, রাফাল যুদ্ধবিমান, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিমানভিত্তিক রাডার সিস্টেম সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ চেষ্টা আমরা যতদিন প্রয়োজন ততদিন চালিয়ে যাব।
ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং জার্মানি পূর্বে জানিয়েছিল, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলায় সরাসরি অংশ নেয়নি। তবে তারা প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, যাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের সক্ষমতা সীমিত করা যায়।
ম্যাক্রোঁ উল্লেখ করেন, আত্মরক্ষার অধিকার অনুযায়ী, মিত্রদের আকাশসীমা রক্ষা করতে ফরাসি বাহিনী প্রথম সংঘর্ষের ১ ঘণ্টার মধ্যেই ড্রোন ধ্বংস করেছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, সোমবার সাইপ্রাসে ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে হামলার পর এই বিমানবাহী জাহাজ স্থানান্তর প্রয়োজন হয়েছে। সাইপ্রাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ এবং ফ্রান্স সম্প্রতি তাদের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি করেছে।
তিনি আরও বলেন, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। জর্ডান ও ইরাকের সঙ্গে শক্তিশালী প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
ম্যাক্রোঁ লেবাননে যুদ্ধ প্রসারিত হওয়ার বিষয় উল্লেখ করে বলেন, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইস্রায়েলের ওপর আক্রমণ করেছে। লেবাননের জনগণকে বিপদে ফেলেছে।
তিনি ইসরায়েলকে গ্রাউন্ড অপারেশন চালানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।
ফ্রান্সের ঐতিহ্যগত নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক নীতির কথা জানিয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, আমরা ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সমর্থন করতে পারি না, কারণ এটি আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে পরিচালিত হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আঞ্চলিক স্থায়ী শান্তি কেবল কূটনৈতিক আলোচনার পুনরায় শুরু দ্বারা সম্ভব।
ম্যাক্রোঁ ইরানকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী করেন। তিনি বলেন, ইরান একটি বিপজ্জনক পারমাণবিক প্রোগ্রাম এবং অভূতপূর্ব ব্যালিস্টিক ক্ষমতা তৈরি করেছে; প্রতিবেশী দেশে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সশস্ত্র ও অর্থায়ন করেছে—লেবানে হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনে হুথি, ইরাকে শিয়া মিলিশিয়া এবং হামাসকে সমর্থন করেছে, সবসময় ইসরায়েলকে ধ্বংস করার লক্ষ্য প্রমাণ করেছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে