ফ্রান্সে আবারও আন্দোলনে নামল শিক্ষার্থীরা
স্কুলে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব, শিক্ষক সংকট ও দীর্ঘ ক্লাসের চাপে ক্ষুব্ধ ফ্রান্সের হাজারো শিক্ষার্থী রাজপথে নেমেছে। শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার দাবিতে রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছে ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা। শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন এবং সরকারের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তারা এ আন্দোলনে অংশ নেয়।
মঙ্গলবার প্যারিসের ঐতিহাসিক প্লাস দো লা রিপাবলিক চত্বরে জড়ো হন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। ড্রামের তালে তালে স্লোগান, হাততালি ও নাচ-গানের মধ্য দিয়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরে তারা। গত মাসের শেষ দিকে শুরু হওয়া আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এদিন ফ্রান্সজুড়ে বেশ কয়েকটি শহরে হাইস্কুল অবরোধের কর্মসূচিও পালিত হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ১৬ বছর বয়সী ইয়ানিস জানায়, তার স্কুলে পর্যাপ্ত শৌচাগার নেই, টয়লেট পেপারেরও সংকট রয়েছে। স্কুলের বিভিন্ন অবকাঠামো ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ক্লাস করতে হয়, অথচ বিরতির জন্য সময় পাওয়া যায় মাত্র এক ঘণ্টা। সার্সেলস শহরতলি থেকে প্যারিসের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া ইয়ানিসের অভিযোগ, একটি শ্রেণিকক্ষে ৩৬ জন শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে বসতে হয়, যা স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনার পরিবেশকে ব্যাহত করছে।
বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট তুলে ধরা হয়। একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘২০২৬ হলো নতুন ১৭৮৯’, যা ফরাসি বিপ্লবের ঐতিহাসিক স্মৃতির প্রতি ইঙ্গিত করে। আগামী বছর দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে বিক্ষোভে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর পদত্যাগের দাবিও ওঠে। একই সঙ্গে কট্টর ডানপন্থিদের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন আন্দোলনকারীদের একাংশ।
তবে বিক্ষোভের উৎসবমুখর পরিবেশের আড়ালে অনেক শিক্ষার্থীর বক্তব্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশার চিত্র উঠে আসে। ১৫ বছর বয়সী ফিদেলের স্বপ্ন আইনজীবী হওয়া। কিন্তু বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে সে বলে, পুরো পরিস্থিতি দেখে তার মনে হয়, এ দেশে তার কোনো ভবিষ্যৎ নেই। ১৬ বছর বয়সী নোহাম কম্পিউটার প্রকৌশলী হতে চায়। তার মতে, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ ও শিক্ষক সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা অর্জন কঠিন হয়ে পড়ছে। যথাযথ শিক্ষার সুযোগ না পেলে স্বপ্নের পেশায় পৌঁছানো সম্ভব হবে না, এমন উদ্বেগও জানায় সে।
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে শিক্ষকতা করা নাদিন জিলিয়াকাস বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা বাড়ছে। কম বয়সী শিক্ষার্থীরাও এখন মনে করছে, পড়াশোনা করে পছন্দের পেশায় যাওয়ার সুযোগ সীমিত এবং শেষ পর্যন্ত চাকরি পাওয়া অনিশ্চিত। শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে উৎসাহিত করলেও তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের দাবির কেন্দ্রে রয়েছে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো, স্কুলের অবকাঠামো সংস্কার এবং গরমের সঙ্গে মানানসই শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা। আন্দোলনকারীদের মতে, এসব সমস্যার সমাধান না হলে শিক্ষার মান ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।
মতামত দিন