এমবাপ্পের রেকর্ডময় দিনে সেনেগালকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিল ফ্রান্স
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের এক হাইভোল্টেজ ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সে ভর করে ম্যাচটি ৩-১ ব্যবধানে জিতে নেয় তারা। পুরো ম্যাচজুড়ে আক্রমণ, গতি এবং নিয়ন্ত্রণ- সব দিক থেকেই স্পষ্ট আধিপত্য দেখিয়েছে ফরাসিরা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথম ৪৫ মিনিটে ফ্রান্সকে বেশ ভালোভাবেই আটকে রেখেছিল সেনেগাল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাইকেল ওলিসে ও এমবাপ্পের দুর্দান্ত সমন্বয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় লে ব্লু।
ম্যাচের শুরু থেকেই ফ্রান্স ছিল আক্রমণাত্মক। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে এবং মাইকেল অলিসের সমন্বয়ে গড়া আক্রমণভাগ শুরু থেকেই সেনেগালের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করে। উইং দিয়ে দ্রুত গতির আক্রমণ, মাঝমাঠে বল দখল এবং একাধিক পাসিং মুভে সেনেগালকে বারবার ব্যস্ত থাকতে হয়। তবে প্রথমদিকে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেও ফ্রান্স গোলের দেখা পাচ্ছিল না।
অবশেষে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ফ্রান্স এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে। এই গোলটি শুধু ম্যাচের জন্য নয়, ইতিহাসের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই গোলের মাধ্যমে এমবাপ্পে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা রেকর্ডে সমতা অর্জন করেন, যা তাকে ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে আরও এক ধাপ উপরে তুলে নেয়। স্টেডিয়ামের দর্শকরাও এই মুহূর্তকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায়।
গোল হজমের পর সেনেগাল ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। কিছুটা সংগঠিত আক্রমণ সাজিয়ে তারা ফ্রান্সের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করে এবং এক পর্যায়ে একটি গোল শোধ করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে। এই গোলের পর কিছু সময়ের জন্য ম্যাচের গতি পরিবর্তন হলেও ফ্রান্স দ্রুতই নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। মাঝমাঠে ওরেলিয়াঁ চুয়ামেনি এবং অ্যাড্রিয়েন রাবিওর নিয়ন্ত্রণ, সঙ্গে দেম্বেলের গতি এবং অলিসের সৃজনশীলতা- সব মিলিয়ে আবারও ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নেয় ফ্রান্স। দ্রুতগতির আক্রমণ এবং ধারাবাহিক প্রেসিংয়ের মাধ্যমে সেনেগালকে নিজেদের অর্ধে আটকে রাখে তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। তারা ধীরস্থিরভাবে বল দখল রেখে সুযোগ তৈরি করতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত আরও দুটি গোল আদায় করে নেয়। ফলে ম্যাচের স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-১। সেনেগাল রক্ষণে চাপ সামলাতে না পেরে বারবার ভুল করে, যার সুযোগ নেয় ফ্রান্সের আক্রমণভাগ। কিলিয়ান এমবাপ্পে পুরো ম্যাচজুড়ে ছিলেন কেন্দ্রবিন্দুতে। তার গতি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং ফিনিশিং আবারও প্রমাণ করেছে কেন তিনি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড। শুধু গোল নয়, তিনি সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
অন্যদিকে সেনেগাল কিছু ভালো মুহূর্ত তৈরি করলেও ফ্রান্সের সংগঠিত ডিফেন্স এবং অভিজ্ঞতার সামনে তারা পুরো ম্যাচে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ দিকে ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রিত খেলা তাদের আর কোনো বড় সুযোগ দেয়নি।
এই জয়ের মাধ্যমে ফ্রান্স তাদের বিশ্বকাপ অভিযানকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে। গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী হওয়া থেকে শুরু করে তারা এখন আত্মবিশ্বাসীভাবে পরবর্তী ম্যাচগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। অন্যদিকে সেনেগালকে পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে হলে রক্ষণভাগ ও ফিনিশিং- দুই দিকেই উন্নতি করতে হবে। ম্যাচ শেষে এখন ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এমবাপ্পে- তিনি শুধু গোলই করছেন না, গড়ছেন নতুন ইতিহাসও।
মতামত দিন