ভারতে ককরোচ পার্টির অভিজিৎ গ্রেপ্তার, সংসদ অভিমুখে মিছিলে উত্তেজনা
ভারতে পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা যুবনেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ মুভমেন্ট’ দাবি করেছে, তাদের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। একই সময়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে সংগঠনটির দুই নেতা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
সোমবার (২০ জুলাই) বৈঠক শেষে আন্দোলনের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, তাদের দাবিসংবলিত একটি লিখিত স্মারক নাড্ডার কাছে দেওয়া হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, বিষয়টি সরকারের অভ্যন্তরে আলোচনা করা হবে।
আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবি করছেন। এ দাবিতে হাজারো সমর্থক সোমবার দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার চেষ্টা করলে রাজধানীতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘মার্চ টু পার্লামেন্ট’ কর্মসূচি শুরু করতে জড়ো হলে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ও তাদের সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়।
এর আগে রোববার দিল্লি পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি না দিয়ে ওই এলাকায় বড় ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে রাজীব চৌক, জনপথ, প্যাটেল চৌক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও সেবা ভবন—এই পাঁচটি মেট্রো স্টেশন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়। এতে রাজধানীর বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে যাত্রীদের ভোগান্তি ও দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়।
এর আগে শনিবার আন্দোলনের সমর্থনে ২১ দিন ধরে অনশনরত শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে নেওয়াকে কেন্দ্র করেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পরও তিনি অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
চলতি বছরের মে মাসে অভিজিৎ দীপকের উদ্যোগে অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা হিসেবে শুরু হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। বিভিন্ন নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং অনিয়মের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। আন্দোলনের কর্মীরা নিজেদের ‘ককরোচ’ পরিচয়ে পরিচিত করেন।
গত এক মাস ধরে যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারীরা। এতে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সদস্যরাও যোগ দিয়েছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের ওজন ইতোমধ্যে ৯ কেজির বেশি কমেছে এবং তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন।
শারীরিক অবস্থার অবনতি সত্ত্বেও তিনি সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সাফদারজং হাসপাতাল থেকে হাতে লেখা এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, তাকে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছে এবং সমর্থকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এ পরিস্থিতিতে তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে. অ্যাংমো আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
মতামত দিন