Views Bangladesh Logo

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক গ্রেপ্তার

সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে রাজধানীর ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে সকাল ৮টার কিছু পরে ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছি। তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এর আগে গত বছর এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে বিচারক হিসেবে ‘দুর্নীতি ও বিদ্বেষমূলক’ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে বেআইনি রায় প্রদান ও জাল রায় তৈরির অভিযোগে দণ্ডবিধির ২১৯ ও ৪৬৬ ধারায় শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়। সংগঠনটি অভিযোগ করে, বিচার বিভাগ ও গণতন্ত্রের অবনতির প্রধান কারিগর তিনি।

তাঁর বিচারপতির পদকালে নানা বিতর্ক দেখা দেয়। আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সিনিয়র বিচারকদের উপেক্ষা করে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে সমালোচনা হয়। ত্রাণ তহবিলের টাকা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত চিকিৎসা খাতে ব্যয় করায় তিনি জনরোষের মুখে পড়েন। তার সর্বশেষ আলোচিত রায় ছিল ১৩তম সংশোধনী বাতিল, যা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে দিলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে।

এছাড়া তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেননি—এ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়। আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিতর্কিত বিচারপতিদের শপথবাক্য পড়ান, আগাম জামিনের অধিকার সীমিত করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করেন।

২০১০ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবিএম খায়রুল হক। এরপর ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তাকে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ওই মেয়াদ শেষে কয়েক দফা কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে পুনর্নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। তবে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর গত বছরের ১৮ আগস্ট তার বিরুদ্ধে আইনজীবী ইমরুল হাসান একটি মামলা করেন, যাতে ১৩তম সংশোধনী রায়ের ভুয়া কপি প্রস্তুত ও জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়।

ছাত্র আন্দোলনের জেরে সরকার পতনের পর পদত্যাগ করেন খায়রুল হক। এরপর থেকে তিনি গণমাধ্যম ও জনজীবনে অনেকটাই আড়ালেই ছিলেন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ