শিশুকে নিয়ে বিমানে ভ্রমণে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
শিশুকে সঙ্গে নিয়ে বিমানে ভ্রমণ অনেক অভিভাবকের কাছেই বাড়তি প্রস্তুতির বিষয়। বিশেষ করে নবজাতক বা ছোট শিশুর ক্ষেত্রে খাবার, পোশাক, প্রয়োজনীয় সামগ্রী থেকে শুরু করে কানে চাপজনিত অস্বস্তি সামলানো পর্যন্ত নানা বিষয় মাথায় রাখতে হয়। তবে কিছুটা পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকলে শিশুকে নিয়ে বিমানযাত্রা হয়ে উঠতে পারে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক ও ঝামেলামুক্ত। জেনে নিন, বিমানে শিশুকে নিয়ে ভ্রমণের সময় কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি।
এক বছরের কম বয়সী শিশুকে নিয়ে বিমানে ভ্রমণ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো। তবে জরুরি প্রয়োজনে এ বয়সের শিশুকে নিয়ে উড়োজাহাজে উঠতে হলে আগে থেকেই কিছু বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। সঠিক পরিকল্পনা ও সতর্কতা থাকলে দীর্ঘ বিমানযাত্রায় শিশু ও অভিভাবক উভয়ের ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
হাঁটতে না শেখা এবং নির্দিষ্ট ওজনসীমার মধ্যে থাকা শিশুদের জন্য অনেক এয়ারলাইনসে বেসিনেটের সুবিধা রয়েছে। দীর্ঘ যাত্রায় শিশুকে কোলে না রেখে এতে শোয়ানো যায়। তাই টিকিট বুকিংয়ের সময় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছে বেসিনেটের সুবিধা রয়েছে কি না এবং শিশুর জন্য নির্ধারিত ওজনসীমা কত, তা জেনে নেওয়া ভালো।
১. প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাতের কাছে রাখুন
শিশুকে নিয়ে বিমানে ভ্রমণের সময় ওয়াইপস, ডায়াপার, হালকা খাবার ও পোশাক পরিবর্তনের ব্যাগ সহজে পাওয়া যায় এমন জায়গায় রাখুন। সঙ্গে শিশুর ও নিজের অতিরিক্ত পোশাক, বিব, প্যাসিফায়ার, ফিডিং বোতল, ফার্স্ট এইড কিট, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং আইস প্যাক রাখাও জরুরি।
২. নবজাতক থাকলে বাল্কহেড সিট বেছে নিতে পারেন
সঙ্গে নবজাতক থাকলে বাল্কহেডের কাছের সিট নেওয়া সুবিধাজনক হতে পারে। বিমানের কেবিনের একটি অংশকে অন্য অংশ থেকে আলাদা করা পার্টিশনের কাছেই এসব সিট থাকে। সাধারণত এখানে পা রাখার জায়গা তুলনামূলক বেশি থাকে, ফলে মা-বাবা ও শিশুর জন্য কিছুটা বাড়তি স্বাচ্ছন্দ্য পাওয়া যায়। এ ধরনের সিট সাধারণত কেবিনের সামনের দিকে থাকে।
৩. কানের অস্বস্তি কমাতে ব্যবস্থা নিন
বিমানের কেবিনের চাপ পরিবর্তনের কারণে শিশুদের কানে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের কান বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় সমস্যা বেশি অনুভূত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে শিশুর জন্য উপযোগী হেডফোন বা ছোট ইয়ারপ্লাগ কিছুটা সহায়ক হতে পারে।
৪. উড্ডয়নের সময় শিশুকে চোষার কিছু দিতে পারেন
বিমান উড্ডয়নের সময় কানে চাপজনিত অস্বস্তি কমাতে শিশুকে প্যাসিফায়ার চোষাতে পারেন। এতে গিলতে ও চোষার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কানের চাপ সামঞ্জস্য করতে সহায়তা হতে পারে। তুলার বল ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে এবং কানের ভেতরে কিছু ঢোকানো এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।
৫. শিশুর খাবার ও দুধ সঙ্গে রাখুন
শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী বুকের দুধ, ফর্মুলা এবং অন্যান্য খাবার সঙ্গে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখুন। পানি বা জুসের মতো প্রয়োজনীয় পানীয়ও সঙ্গে রাখা যেতে পারে। দুধ বা খাবার ঠান্ডা রাখতে আইস প্যাক, জেল প্যাক কিংবা প্রয়োজনীয় কুলিং সামগ্রীও বহন করতে পারেন। তবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিধি ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের নিয়ম আগে দেখে নেওয়া ভালো।
৬. দীর্ঘ ভ্রমণে বেবি ক্যারিয়ার বা ট্রাভেল স্ট্রলার নিন
দীর্ঘ সময়ের যাত্রায় শিশুকে সামলানো সহজ করতে বেবি ক্যারিয়ার বা ভ্রমণ উপযোগী স্ট্রলার সঙ্গে রাখতে পারেন। এতে বিমানবন্দরে চলাচল ও অপেক্ষার সময় শিশুকে বহন করা তুলনামূলক সহজ হয়।
৭. শিশুদের ব্যস্ত রাখার ব্যবস্থা করুন
টোডলার বা চঞ্চল বয়সের শিশুদের দীর্ঘ ফ্লাইটে ব্যস্ত রাখতে অ্যাক্টিভিটি বুক, ছবি আঁকার সামগ্রী কিংবা পছন্দের ছোট খেলনা সঙ্গে নিতে পারেন। এতে ভ্রমণের সময় শিশুর একঘেয়েমি কমবে এবং তাকে শান্ত রাখাও সহজ হবে।
শিশুকে সঙ্গে নিয়ে বিমানে ভ্রমণ কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও আগে থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকলে যাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক করা সম্ভব। শিশুর প্রয়োজনীয় সামগ্রী হাতের কাছে রাখা, কানের অস্বস্তি কমানোর ব্যবস্থা করা এবং বয়স অনুযায়ী খাবার ও বিনোদনের ব্যবস্থা রাখলে ভ্রমণের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সহজ হয়। পাশাপাশি এয়ারলাইনস ও বিমানবন্দরের নিয়মকানুন আগে থেকে জেনে নিলে শিশু ও অভিভাবক দুজনের জন্যই নিরাপদ ও আরামদায়ক হতে পারে পুরো যাত্রা।
মতামত দিন