Views Bangladesh Logo

আমের খোসা ব্যবহারের ৫টি ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক উপায়

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

আম খাওয়ার পর আমরা সাধারণত এর খোসা ফেলে দিই। কিন্তু অনেকেই জানেন না, এই আপাতদৃষ্টিতে “ফেলে দেওয়ার মতো” আমের খোসার মধ্যেও রয়েছে নানা উপকারী গুণ। সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে এটি শুধু ঘরের কাজে নয়, ত্বকের যত্ন থেকে শুরু করে খাদ্য প্রস্তুতিতেও কাজে লাগতে পারে।

আমের খোসায় রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং প্রাকৃতিক উপাদান, যা ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে। নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং কিছু সাধারণ ত্বকের সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া ঘরোয়া কিছু কাজে প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে আমের খোসা ব্যবহার করা যায়, যা পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ীও বটে।

ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক স্ক্রাব হিসেবে
প্রথমে আমের খোসা ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে সেটি গুঁড়ো করে সংরক্ষণ করা যায়। আমে যেমন ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ও বিটা ক্যারোটিন থাকে, তেমনি এর খোসাতেও কিছু পুষ্টিগুণ থেকে যায়। এই গুঁড়ো ত্বকের জন্য একটি প্রাকৃতিক স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করা যায়, যা ত্বকের মরা কোষ দূর করতে সাহায্য করে এবং ত্বককে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল রাখে।

রান্নাঘরের দুর্গন্ধ দূর করতে
আমের খোসায় প্রাকৃতিক সুগন্ধ থাকে। এক বাটি পানিতে আমের খোসা দিয়ে ফুটালে তার বাষ্প রান্নাঘরের দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে। চাইলে এই ফুটানো পানি ঠান্ডা করে স্প্রে বোতলে ভরে ঘর পরিষ্কারের সময় ব্যবহার করা যায়।

আমের খোসা দিয়ে জেলি তৈরি
ভালোভাবে ধোয়া আমের খোসা অল্প পানিতে ফুটিয়ে নিতে হবে। ফুটে গেলে খোসা ছেঁকে ফেলে দিয়ে সেই পানিতে চিনি মিশিয়ে জ্বাল দিতে হবে। ধীরে ধীরে মিশ্রণ ঘন হতে শুরু করলে স্বাদ অনুযায়ী সামান্য লবণ যোগ করা যায়। ঘন হয়ে এলে ঠান্ডা করে কাচের বয়ামে সংরক্ষণ করলে এটি ঘরোয়া জেলি হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

জৈব সার হিসেবে ব্যবহার
আমের খোসা জমিয়ে শুকিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিলে এটি প্রাকৃতিক জৈব সার হিসেবে কাজ করে। এতে থাকা বিভিন্ন খনিজ মাটির উর্বরতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া পানিতে ভিজিয়ে রেখে তরল জৈব সারও তৈরি করা যায়, যা গাছের জন্য উপকারী।

পোকামাকড় প্রতিরোধে সহায়ক
কুচি কুচি করে কাটা আমের খোসা টবের মাটিতে দিলে এর প্রাকৃতিক গন্ধ কিছু পোকামাকড়কে দূরে রাখে। এতে গাছ তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে এবং ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ কমে যায়।

সব মিলিয়ে আমের খোসা শুধুমাত্র বর্জ্য নয়, বরং সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি ঘরোয়া নানা কাজে উপকারী ও পরিবেশবান্ধব একটি উপাদান হিসেবে কাজে লাগে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ